অর্থনীতি ও বাণিজ্য

রাজধানীর বাজারে চালের দাম ঊর্ধ্বমুখী, অন্য পণ্যে স্বস্তি

রাজধানীর বাজারে শাক-সবজি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও চালের বাজারে অস্বস্তিকর উত্থান লক্ষ করা যাচ্ছে। বিশেষ করে মিনিকেট চালের দাম হঠাৎ করেই কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়ে গেছে, যা ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে মিল পর্যায়ে মিনিকেট চালের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে খুচরা ও পাইকারি বাজারে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজার, বাবুবাজার, বাড্ডা বাজার ও জোয়ারসাহারা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ভালো মানের মিনিকেট চাল দুই সপ্তাহ আগে যেখানে প্রতি কেজি ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, এখন তা ৯২ থেকে ৯৫ টাকায় উঠেছে। কিছু নিম্নমানের মিনিকেট ৮৫ থেকে ৯০ টাকায় পাওয়া গেলেও অধিকাংশ জায়গায় উচ্চ মূল্যের দিকেই বাজার গড়িয়েছে। নাজিরশাইল চালের দামও ৮৫ থেকে ৯৫ টাকার মধ্যে রয়েছে।

খুচরা বিক্রেতারা জানান, পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ৫০ কেজির মিনিকেট চালের বস্তার দাম দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ৫১০ থেকে ৫২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে, ফলে কেজিপ্রতি গড় দাম বেড়েছে ১০ টাকা। এতে সাধারণ ভোক্তাদের বাড়তি ব্যয়ের চাপ সামলানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

রাজধানীর পাইকারি চাল ব্যবসায়ীরা বলছেন, মিনিকেট চালের ধান বর্তমানে বাজারে সংকটে রয়েছে, যা মূলত এই দাম বৃদ্ধির কারণ। কারওয়ান বাজারের এক পাইকারি ব্যবসায়ী মো. সায়েম হোসেন বলেন, ‘মিনিকেট চালের ধান সাধারণত বৈশাখ মাসে উৎপাদিত হয়। এখন মৌসুমের শেষ পর্যায়, ফলে বাজারে ধানের সরবরাহ কম। মিলাররা চাহিদামতো ধান না পাওয়ায় বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন, যার সরাসরি প্রভাব চালের দামে পড়েছে।’

বাবুবাজার পাইকারি চাল ব্যবসায়ী সমিতির এক নেতা জানান, ‘এবার বাজারে মিনিকেট চালের ধানের সংকট রয়েছে, যা দামের ঊর্ধ্বগতির মূল কারণ। তবে অন্যান্য মোটা চালের দাম স্থিতিশীল রয়েছে, কারণ ভারত থেকে মোটা চাল ও নাজিরশাইল চাল আমদানি হয়েছে।’

বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার গত বছরের নভেম্বর মাসে চাল আমদানির ওপর ২ শতাংশ অগ্রিম আয়কর রেখে অন্যান্য শুল্ক প্রত্যাহার করেছিল। তবে আশানুরূপ আমদানি না হওয়ায় বাজারে এর প্রভাব পড়েনি।

রাজধানীর খাদ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চালকল মালিকদের মজুদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হবে এবং অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বাস্তবে বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ এখনো দেখা যাচ্ছে না।

রমজান মাসকে কেন্দ্র করে সাধারণত যেসব পণ্যের দাম বাড়তে দেখা যায়, সেগুলোর ক্ষেত্রে এবার পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক। টমেটো, আলু, পেঁয়াজ, ছোলা, চিনি, আদা, রসুনসহ বেশিরভাগ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে।

রাজধানীর বাজারগুলোতে দেশি পেঁয়াজ মানভেদে ৩৫ থেকে ৫০ টাকা, ছোলা ১০০ থেকে ১১০ টাকা, চিনি ১২০ টাকা, আলু ২০ টাকা, দেশি আদা ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, দেশি নতুন রসুন ১২০ থেকে ১৫০ টাকা ও আমদানীকৃত রসুন ২৩০ থেকে ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রোজার শুরুতে মুরগির দাম কিছুটা চড়া থাকলেও এখন তা কিছুটা কমেছে। সোনালি মুরগি কেজিপ্রতি ২৬০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা রমজানের শুরুতে ছিল ৩০০ থেকে ৩৪০ টাকা। ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা কমে এখন ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বৈশাখ মাসে নতুন মিনিকেট চালের ধান উৎপাদন শুরু হলে দাম কিছুটা কমতে পারে। তবে এর আগে সরকারের তদারকি ব্যবস্থা কার্যকর না হলে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর চাপ আরও বাড়বে। অন্যদিকে অন্যান্য পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকলেও চালের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সামগ্রিক বাজার ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বায়ান্ন/এএস/একে

 



সম্পর্কিত খবর