এই মাত্র পাওয়া :

ঢাকা, রোববার, ১৭ জানুয়ারী ২০২১

অবরুদ্ধ সেই দিনে জননেত্রীর সাক্ষাত পেতে দু:সাহসী মিসবাহ সিরাজ

বিভাগ : ফিচার প্রকাশের সময় :৬ মে, ২০২০ ১১:৫৯ : অপরাহ্ণ

সিলেট ব্যুরো: ২০০৭ সাল। দেশে জরুরি অবস্থা চলছে। আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছিলেন। জরুরি সরকারের রেড এলার্ট ছিল। শেখ হাসিনা দেশে প্রত্যাবর্তন করতে পারবেন না। কিন্তু যেকোনো অবস্থায় তিনি দেশে আসার সিদ্ধান্ত নেন। জরুরি সরকারের রক্ত চক্ষুকে উপেক্ষা করে তিনি ৭ মে দেশে প্রত্যাবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন। বাংলাদেশ বিমানসহ অন্যান্য এয়ারলাইন্স গুলো শেখ হাসিনাকে দেশে আনতে অপরাগতা প্রকাশ করে। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজে টিকিট কনফার্ম থাকার পরও তাতে শেখ হাসিনাকে চড়তে দেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ইত্তেহাদ এয়ার লাইন্স জননেত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে আনতে রাজি হয়। ইত্তেহাদের একটি বিমানে করে ৭ মে বিকেলে তিনি ঢাকায় পৌঁছেন। সাথে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী আওয়ামী লীগে নেতা ছিলেন। ৭ মে‘র শেখ হাসিনার দেশে প্রত্যাবর্তন বিষয়ে দৈনিক বায়ান্নকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বিশেষ সাক্ষাতকার দিয়েছেন। এডভোকেট মিসবাহ ২০০৭ সালে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ৭ মে শেখ হাসিনার দেশে প্রত্যাবর্তন বিষয়ে বলতে গিয়ে এডভোকেট মিসবাহ সিরাজ বলেন, জরুরি সরকারের সকল বিধি নিষেধ লঙ্ঘন করে ঢাকার আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে লাখ লাখ নেতাকর্মী বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে জরো হন। সকাল থেকে নেতাকর্মীরা বিমানবন্দর এলাকায় অবস্থান নিতে শুরু করলে, তা এক সময় জনসমূদ্রে পরিণত হয়। জরুরি সরকারের সকল বিধি নিষেধ অকার্যকর হয়ে যায়। জননেত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমান ঢাকার মাটিতে অবতরণের সাথে সাথে নেতাকর্মীদের স্লোগান শুরু হয়। স্লোগানের আওয়াজ ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। এডভোকেট মিসবাহ বলেন, ওইদিন আমিও ঢাকার আন্তর্জাতিক বিমাবন্দরে উপস্থিত ছিলাম। সিলেটের অনেক নেতাকর্মী ওইদিন ঢাকার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হাজির হয়েছিলেন। যার মধ্যে অন্যতম হলেন শফিকুর রহমান চৌধুরী, নাসির উদ্দিন খান, মুক্তিযোদ্ধা আবদুল খালিক, প্রিন্স সদরুজ্জামান, সৈয়দ শামীম, জগলু চৌধুরী, ছাত্রনেতা হাবিবুর রহমান সেলিমসহ আরো কয়েকজন। কিন্তু জনস্রোতের কারণে ওইদিন জননেত্রীর সঙ্গে আমরা সাক্ষাত করতে পারিনি। ৮ মে দলীয় প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাত প্রসঙ্গ টেনে এডভোকেট মিসবাহ বলেন, ৮ মে জননেত্রী শেখ হাসিনার বাড়ি ঘেরাও করে রেখেছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কাউকে বাড়ির ভেতর প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছিল না। আমরাও ওই দিন নেত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করতে যাই। আমাদেরকেও ভেতরে প্রবেশে বাধা দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন। তখন আমি তাদের সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়ি। আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কাছে জানতে চাই কোন্ আইনে আমাদের যেতে দেবেন না। ওই তর্ক অনেক উচ্চস্বরে হচ্ছিল। পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হয়ে উঠে। তখন জননেত্রী শেখ হাসিনা দোতালায় এসে আমাদেরকে দেখেন। তিনি তাঁর নিজস্ব নিরাপত্তার লোকজনকে পাঠিয়ে আমাদেরকে ভেতরে নিয়ে যান। এডভোকেট মিসবাহ বলেন, নেত্রীর কক্ষে প্রবেশ করেই দেখতে পাই সেখানে বসা আছেন আজকের শিক্ষামন্ত্রী ড. দীপু মনি। জননেত্রী শেখ হাসিনা নিচে নেমে আসেন। আমাদের সাথে প্রায় দেড় ঘন্টা আলোচনা করেন। সিলেট বিভাগের নেতাকর্মীদের খোঁজ খবর নেন। নেত্রী আমাদেরকে নানা দিকনির্দেশনা দেন। ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান। দলীয়ভাবে যখন যে কর্মসূচি আসবে, তা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন। সব কর্মসূচিই শান্তিপূর্ণভাবে পালনের নির্দেশনা দেন। আন্দোলন সংগ্রামের জন্যে প্রস্তুত থাকার আহ্বানও জানান জননেত্রী শেখ হাসিনা।

Print Friendly and PDF

ফেইসবুকে আমরা