এই মাত্র পাওয়া :

ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১

কাশিমপুর দরবারের পীর কামরুজ্জামান চিশতীও ঢাকার জুরাইন দরবারের কিছু কথা

বিভাগ : ফিচার প্রকাশের সময় :২৯ এপ্রিল, ২০২১ ৩:৫৫ : অপরাহ্ণ

 

মমিন মোল্লা, মুরাদনগর, কুমিল্লা:

 

 কুমিল্লার মুরাদনগর কাশিমপুর দরবার শরীফের পীরসাহেব, ইমামে রাব্বানী দরবার শরীফের মেঝ জামাতা আল্লামা খাজা কামরুজ্জামান চিশতী সাহেব গতকাল  রাত ১০টায় ইন্তেকাল করেছেন।তিনিখাজা আবু নছর মোহাম্মদ নাজিবুদ্দিন চিশতী (রা.) এঁর বড় ভাতিজা, আল্লামা সৈয়দ আবিদ শাহ্ মোজাদ্দেদী (রা.) এঁর জামাতা হিসাবে পরিচিত ছিলেন।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তার অনেক অবদান ছিল।তিনি নিজে মুক্তিযুদ্ধের সরাসরি সমর্থক ছিলেন।এছাড়া তিনি তার মুরিদদের যুদ্ধে যেতে উৎসাহিত করেন।কথা সাহিত্যিক আনিসুল হকের মা উপন্যাসে আজাদের মা সফিয়া বেগম তার ছেলে আজাদকে জুরাইনের পীর সাহেবের নির্দেশে মুক্তিবাহিনীতে যোগ দিতে বলেছিলেন। মেজর কামরুল হাছান ভূেইয়া ২ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেছেনে।তিন মুরাদনগরের থান কমান্ডার হিসাবে চাপিতলার যুদ্ধসহ বহু যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। তার বিখ্যাত পুস্তক জনযুদ্ধের গণযোদ্ধাতে চাপিতলার যুদ্ধে কাশিমপুরের পীরদের অবদানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। পীরের কথায় পাক হানাদররা সেদিন তান্ডবলীলা না চালিয়ে নবীনগরের দিকে চলে গিয়েছিল বলে জানা যায়।

রাজধানীর জুরাইনের হযরত খাজা শাহ্ আবুন্নাছরে মোহাম্মদ নাজীবুদ্দীন চিশতির মাজার । স্থানীয়ভাবে মাজারটি জুরাইন দরবার শরীফ নামে পরিচিত। ৬৮ বছরের এই পুরনো দরবার শরীফের গদিনশীন পীর মাওলানা কামরুজ্জামান চিশতি। ৭৩ বছর বয়সী এই পীর ১০ মাস ধরে হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসসহ একাধিক রোগে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী। ছিলেন। ৩ মেয়ে থাকলেও তার কোনো ছেলে সন্তান নেই।

আরেকটি শাখা রয়েছে কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থানার পীর কাশেমপুর গ্রামে। সেটি পীর কাশেমপুর দরবার শরীফ নামে পরিচিত।সেখানে বর্তমান পীরের দাদা শামসুজ্জোহা চিশতির মাজার রয়েছে।  পীরের বড় মেয়ে মোসাম্মাৎ তাহেরা জামান মানবজমিনকে জানান, ১৯৬৪ সাল থেকে আমল ও হাকিক্বত সহকারে আমার বাবা মাজার শরীফ পরিচালনা করে আসছেন। বাবা গত দশ মাস আগে স্ট্রোক করেছিলেন। এছাড়াও বার্ধক্যজনিত নানা রোগে তিনি আক্রান্ত ছিলেন।

ঢাকার জুরাইন মূল সড়কের পাশেই ‘জুরাইন দরবার শরীফ’। পাশেই রয়েছে সালাহউদ্দিন আহমেদ নামে একটি পেট্রোল পাম্প। প্রায় ৪ একর জমির ওপর এই দরবার শরীফ প্রতিষ্ঠিত। মাজারের জমির আকারটি লম্বা। ঢোকার জন্য ২টি গেট রয়েছে। একটি গেটের পাশে রয়েছে চিশতিয়া বেকারি। আরেকটি গেটের প্রান্তে রয়েছে চিশতিয়া টাওয়ার। মাজারের মধ্যেই রয়েছে বর্তমানের গদিনশীন পীরের তিনতলা একটি বাড়ি। এই বাড়িতেই তার ৩ মেয়ে থাকেন। বাড়ির সামনে রয়েছে পীরের মেজো ভাই শাহ্ আলম। জহরুল আলম নামে অন্য ভাই থাকেন জুরাইন এলাকায় অন্য একটি বাড়িতে। তবে নজরুল আলম নামে আরেক ভাই পরিবার নিয়ে ভারতে থাকেন। মাজারে ওরশ হলে তিনি ভারত থেকে যোগ দিতে আসেন।

জানা গেছে, বর্তমান গদিনশীন পীরের চাচা হযরত খাজা শাহ্ আবুন্নাছরে মোহাম্মদ নাজীবুদ্দীন চিশতি আল হক নাওয়ারাল্লা শারকাদাহ ১৯৪১ সালে জুরাইন দরবার শরীফ প্রতিষ্ঠা করেন। ওই বছর তার পরিচালনায় প্রথম ওরশ অনুষ্ঠিত হয়। তারও কোনো ছেলে সন্তান ছিল না। ১৯৬৪ সালে তিনি মারা যাওয়ার পর তার ভাতিজা বর্তমান পীর কামরুজ্জামান চিশতিকে বায়াত দিয়ে খেলাফত দান করে যান।পরিবার সূত্রে জানা যায়, তখন থেকেই তিনি খাস নিয়ত ও হেকমতের সঙ্গে এই মাজার শরীফ পরিচালনা করে আসছিলেন। মাজারের অন্য সম্পত্তিগুলোকে রক্ষণাবেক্ষণ ও সেখান থেকে আয়কৃত টাকা তিনি জনকল্যাণে ব্যয় করেন। এছাড়াও কুমিল্লার মুরাদনগারের পীরকাশেমপুর দরবার শরীফটিও তিনি ঢাকা থেকে পরিচালনা করতেন। ১৫ দিন পর পর সেখানে গিয়ে তিনি তার মুরিদদের ঈমানের উপর টিকে থাকার জন্য নসিয়ত ও বায়াত প্রদান করতেন।

Print Friendly and PDF

ফেইসবুকে আমরা