এই মাত্র পাওয়া :

ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১

গাজীপুরে হলুদ তরমুজ চাষে স্বাবলম্বী কৃষক হামিদ মিয়া 

বিভাগ : এক্সক্লুসিভ প্রকাশের সময় :৩০ এপ্রিল, ২০২১ ৪:২৩ : অপরাহ্ণ


 
মোহাম্মদ আকতারুজ্জামান, গাজীপুর :
 
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার টেপিরবাড়ী গ্রামের কৃষক হামিদ মিয়া হলুদ তরমুজ চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। 
একবছর আগে ইউটিউবে হলুদ তরমুজ চাষ পদ্ধতি দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে চুয়াডাঙ্গার এক কৃষকের কাছ থেকে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে বীজ সংগ্রহ করেন।
এরপর নিজের ১০ শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ শুরু করেন হলুদ তরমুজের। 
শুরুতেই সফলতা। তারপর বেশ বড় পরিসরে হলুদ তরমুজের চাষ শুরু করেন। এখন তার মাঁচায় দুলছে হলুদ, সোনালী ও সবুজ রংয়ের শতশত তরমুজ। 
এই মৌসুমে অন্যান্য জাতের তরমুজের বাজার- দরের সঙ্গে এই তরমুজের দরও সমানতালে পাল্লা দিয়ে চলছে। 
বর্তমান বাজারে প্রতি কেজি তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা দরে। কৃষক হমিদ এবার বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ধরেছেন দুই লাখ টাকা।
 
সরেজমিনে হামিদ মিয়ার তরমুজ ক্ষেতে গিয়ে দেখা যায়, মাটি থেকে ১৫-২০ সেন্টিমিটার উঁচু লম্বা মাঁচা (বেড) তৈরি করে মালচিং পেপার দিয়ে শক্ত করে ঢেকে দেয়া হয়েছে। 
চার হাত অন্তর একটি বেড। এভাবে প্রায় ৩৫ শতাংশ জমিতে তৈরি করা হয়েছে ৩০টি বেড। এর ওপরে ছাউনির মতো ঘুরিয়ে মাঁচা দেয়া হয়েছে। সে মাঁচায় ঝুলে রয়েছে শত শত বাদামি ও সবুজ রংয়ের বেবী তরমুজ। এসব তরমুজ বেশ রসালো ও সুমিষ্ট। কচি অবস্থায় তরকারি  রান্না করেও খাওয়া যায় এই তরমুজ। 
 
কৃষক হামিদ মিয়া জানান, তিনি ইউটিউবের মাধ্যমে এ জাতের তরমুজ চাষ দেখে অনেকটা শখের বশে চাষ শুরু করেন। তরমুজ চাষে মাঁচা তৈরি ছাড়া তেমন কোনো খরচ হয়নি।
 
 অনেকে সরাসরি তার ক্ষেত থেকে তরমুজ কিনতে আসেন। পাশাপাশি চাষ পদ্ধতিও জেনে যান। 
স্থানীয় কৃষি বিভাগ তাকে সবসময় পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করে যাচ্ছে বলে জানা যায়।
 
 হামিদ মিয়া বলেন, ২০১৮ সালে ডিগ্রি পাস করার পর বেকারত্বের বোঝা মাথায় নিয়ে হতাশ ছিলাম। আর্থিক অভাবের কারণে কিছুই করার সাহস পাচ্ছিলাম না। কম খরচে কিছু একটা করে অধিক লাভবান হওয়া যায় এমন চিন্তা সবসময় মাথায় কাজ করত। 
বিভিন্ন ইউটিউব চ্যানেলে তরমুজ চাষের পদ্ধতি দেখে আগ্রহ বাড়ে আমার। তারপর শুরু করি তরমুজ চাষ। 
 
জানা যায়, প্রথমবারের মতো জেলার কাপাসিয়া উপজেলার দরদরিয়া গ্রামে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে প্রায় চার বিঘা জমিতে আগাম জাতের এ তরমুজ চাষ করেছিলেন কৃষক আকবর হোসেন।
 
আকবর হোসেন বলেন, তিনি প্রথমবারের মতো তরমুজ চাষে সফল হয়েছেন। প্রথম বছরেই তার আয় হয়েছে প্রায় তিন লাখ টাকা। সামনের বছর দ্বিগুণ চাষের পরিকল্পনা রয়েছে তার।
 
 গাজীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্যমতে, গাজীপুরের মাটি অত্যন্ত উর্বর। এখানে সব ধরনের ফসলই উৎপাদন হয়। 
তবে এতোদিন অধরা ছিল তরমুজ চাষ। গত কয়েক বছর ধরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে কৃষকরা তরমুজের আবাদ করে আসছেন। জেলায় শুধুমাত্র কাপাসিয়া ও শ্রীপুর উপজেলায় তরমুজের আবাদ হয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী চলতি বছর জেলার এ দুটি উপজেলায় ১.৪ হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষ করেছেন প্রায় অর্ধশত কৃষক।
 
উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৩ মেট্রিক টন। চাষকৃত বেবী তরমুজের মধ্যে রয়েছে ‘সুইট ব্ল্যাক’ বা কালো জাত ও নতুন ‘গোল্ডেন ক্রাউন’ বা হলুদ জাতের তরমুজ। 
এসব জাতের তরমুজ সারা বছর ধরেই আবাদ করা যায়। আকারে ছোট হওয়ায় স্থানীয়রা একে ‘বেবী তরমুজ’ বলেই অভিহিত করেন। প্রতিটি তরমুজের ওজন হয় ২ থেকে ৩ কেজি। 
 
জেলা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক মাহবুব আলম বলেন, গাজীপুরের দুটি উপজেলায় এখন পর্যন্ত এ জাতের তরমুজের চাষ হচ্ছে। কৃষি বিভাগের তত্ত্বাবধানে নানা ধরনের কৃষিপ্রযুক্তি ব্যবহার করে বিষমুক্ত এই ফল স্থানীয়ভাবে চাষ করে কৃষকরা ভালো দামও পাচ্ছেন।
 
লাভজনক বিবেচনায় কৃষকদের মধ্যে প্রতিনিয়ত আগ্রহ তৈরি হয়েছে এই জাতের তরমজু চাষ নিয়ে। 
 নতুন জাতের হলুদ রঙের এই তরমুজের বেশি চাষ হয় আফ্রিকাতে। সম্প্রতি দেশের দিনাজপুর, নওগাঁ, রাজশাহীসহ বেশ কিছু জেলায় অল্প পরিসরে চাষ শুরু হয়েছে এই তরমুজের।

Print Friendly and PDF

ফেইসবুকে আমরা