এই মাত্র পাওয়া :

ঢাকা, রোববার, ৭ মার্চ ২০২১

জীবন সায়াহ্নে সিলেটের প্রবীণ রাজনীতিবিদ সৈয়দ আবদুল হান্নান

বিভাগ : কলাম প্রকাশের সময় :১৫ জানুয়ারি, ২০২১ ৫:২০ : অপরাহ্ণ

মিলু কাশেম

কয়েক বছর আগেও সিলেটর রাজপথে সভা সমাবেশ যে কোনো গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অগ্রভাগে আপাদমস্তক সফেদ খদ্দরের পায়জামা পাঞ্জাবি পরিহিত সৌম্যদর্শন একজন নেতা সবার দৃষ্টি কাড়তেন। তিনি হলেন গরীব দুখি মেহনতি মানুষের বন্ধু ন্যাপ নেতা আমার মামা সৈয়দ আব্দুল হান্নান।

এই বেশভূষার নেতা সিলেটে তিনিই একজন। শহরের আনাচে কানাচে দেখা যেতো তাকে পায়ে হেটে চষে বেড়াতেন সর্বত্র । এখন আর তার দেখা মিলে না। মানুষের জন্য নিবেদিত প্রাণ গরীবদুখি মানুষের বন্ধু প্রগতিশীল রাজনীতিবিদ সৈয়দ আব্দুল হান্নান এখন লোকচক্ষুর আড়ালে। নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে এখন শয্যাশায়ী। সারাদিন এখন তার বিছানায় কাটে। চলাফেরা করতে পারেন না। কথাবার্তা বলতে কষ্ট হয়। স্মৃতি শক্তি ও কাজ করে না ঠিক মত। কেবল তাকিয়ে থাকেন অসহায়ের মত। পরিচিত জন দেখলে উৎফুল্ল হন। হয়ে পড়েন আবেগ আপ্লুত।

সৈয়দ আব্দুল হান্নান এক সংগ্রামী মানুষের নাম। ভাষা আন্দোলন স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের তিনি অন্যতম সংগঠক। এদেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে রয়েছে তার অগ্রণী ভূমিকা।

বাংলাদেশের ইতিহাস আন্দোলন সংগ্রাম শহীদ বীরদের আত্মত্যাগের ইতিহাস। এই ত্যাগের ইতিহাসে বাংলাদেশের মানুষের রয়েছে মহৎ কীর্তি। সুদিনের স্বপ্নে সামাজিক ন্যায় বিচার ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য বহু বাঙালি ত্যাগ স্বীকার করেছেন। মাটি ও মানুষের নেতা প্রগতিশীল রাজনীতিবিদ সৈয়দ আবদুল হান্নান তাদেরই একজন।

ভাষা সৈনিক শিক্ষানুরাগী সমাজকর্মী মানবতাবাদি সাংস্কৃতিক কর্মী ও সংগঠক বাংলাদেশের স্বাধীকার আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধেরর অন্যতম সংগঠক সৈয়দ আবদুল হান্নান এর জন্ম ১৯৩৬ সালের ১লা সেপ্টেম্বও তৎকালীন সিলেট জেলার সুনামগঞ্জ মহকুমার জগন্নাথপুর থানার ঐতিহ্যবাহী গ্রাম সৈয়দপুরের এক সম্ভ্রান্ত মুসলাম পরিবারে। তার পিতার নাম সৈয়দ শমসেদ আলী আর মাতার নাম মোসাম্মৎ ইয়াহুরা বিবি। ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি হলেন দ্বিতীয়।

সৈয়দ আবদুল হান্নানের শিক্ষাজীবন শুরু হয় নিজ গ্রামের সরকারি মক্তবে। পরবর্তিতে ১৯৫০ সালে তিনি চলে যান হবিগঞ্জে। সেখান ভর্তি হন হবিগঞ্জ গভঃ হাই স্কুলে। তখন হবিগঞ্জ গভঃ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন সৈয়দ আবদুল হান্নানের আত্মিয় সৈয়দপুরের সন্তান সৈয়দ হাফিজুর রহমান। উল্লেখ্য সৈয়দ হাফিজুর রহমান ছিলেন তৎকালীন সুনামগঞ্জ মহকুমার প্রথম মুসলিম গ্রেজুয়েট। এই হাফিজুর রহমান সাহেবের কঠোর তত্ত্বাবধানে এগিয়ে চলে তার লেখাপড়া। ১৯৫২ সালে সৈয়দ আবদুল হান্নান স্কুলের ছাত্র থাকা অবস্থায় দেশে শুরু হয় মহান ভাষা আন্দোলন। তিনিও সেই আন্দলনে সক্রিয় কর্মি হিসাবে অংশ গ্রহণ করেন। একই বছর ১৯৫২ সালে ২৬ এপ্রিল কমিউনিসট পার্টি প্রভাবিত বামপন্থি ছাত্র সংগঠন ছাত্র ইউনিয়ন গঠিত হলে তিনি তাতে সক্রিয় কর্মি ও সংগঠক হিসাবে যোগদান করেন।

ছাত্রাবস্থায়ই সময় তার যোগাযোগ হয় নিষিদ্ধ ঘোষিত কমিউনিস্ট পার্টির সাথে। শোষনমুক্ত সমাজ গঠন ও দেশ মাতৃকার স্বাধীকারের স্বপ্নে বিভোর হয়ে তিনি নিজেকে রাজনীতির সাথে জড়িয়ে ফেলেন। এরপর ধীরে ধীরে তিনি নিজেকে আরো বেশী করে উৎসর্গ করেন মানুষের মুক্তির সংগ্রাম আর লড়াইয়ে। এক পর্যায়ে তার জীবনে শুরু হয় নতুন অধ্যায় যা অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ি হওয়ার আগ পর্যন্ত ছিল চলমান।

১৯৫৩ সালের জানুয়ারি মাসে অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল গনতন্ত্রী দল গঠিত হলে সৈয়দ আবদুল হান্নান এর সুনামগঞ্জ মহকুমা শাখা কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৫৪ সালে নিষিদ্ধ ঘোষিত কমিউনিস্ট পার্টির নির্দেশে তিনি ঢাকার নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত আদমজী জুট মিলে চাকুরী গ্রহণ করে আদমজী জুট মিলস মজদুর ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠায় সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণ করেন।

পরবর্তিতে তিনি আদমজী জুট মিল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। একই বছর মে মাসের ১৫ তারিখে নারায়নগঞ্জের আদমজী জুট মিলস এবং চট্রগামের চন্দ্রঘোনা পেপারমিলে পাকিস্তান কেন্দ্রিয় সরকারের নির্দেশে বাঙালি ও গণতন্ত্র বিরোধি অপশক্তি বাঙালি বিহারী শ্রমিকদের মধ্যে সংঘাতময় অবস্থার সৃষ্টি করে বাঙালি বিহারী দাঙ্গা বাধিয়ে দেয়। এ দাঙ্গায় বহু শ্রমিক হতাহত হয়।

এ সময় পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার ৯২ -ক ধারার ক্ষমতা বলে পূর্ব বাংলায় কেন্দ্রীয় শাসন জারি করে। এ সময় আদমজীর দাঙ্গাকে কেন্দ্র করে সরকার ব্যাপক ধড় পাকড় চালায়। সরকারের দায়ের করা মামলায় সৈয়দ আবদুল হান্নানকেও আসামি করে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় ২৭ দিন কারাবন্দি হিসাবে তিনি ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে থাকেন। পরে আমার বাবা তার চাচাতো ভাই এবং ভগ্নিপতি সৈয়দ রাছ উদ্দিন আহমদ (রাছ মিয়া)সাহেবের চেষ্টায় তিনি জামিনে মুক্ত হন। জেল থেকে বের হয়ে সৈয়দ আবদুল হান্নান আবার আদমজীতে চাকুরী ও মজদুর ইউনিয়নের কাজে সক্রিয় হন। তবে মামলা চলতে থাকে। ১৯৫৬ সালে আতাউর রহমান খান বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হলে এই মামলা প্রত্যাহার করা হয়।

১৯৫৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) গঠিত হয়। সৈয়দ আবদুল হান্নান আদমজী মজদুর ইউনিয়নের প্রতিনিধি হিসাবে এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৫৮ সালে ৭ অক্টোবর মেজর জেনারেল ইসকন্দর মির্জা পাকিস্তানের রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে সামরিক শাসন জারি করেন। তখন ৯২- ক ধারা বলে আদমজী জুট মিল থেকে সৈয়দ আবদুল হান্নানসহ অনেককে চাকুরী থেকে বরখাস্ত করা হয়। সৈয়দ আবদুল হান্নান ১৯৬২ সালের মে পর্যন্ত ঢাকায় অবস্থান করে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে বাঙালির সকল স্বাধীকার আন্দোলন সমূহের সাথে যুক্ত থাকেন।

মে মাসের পর তিনি নিজ গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের সৈয়দপুরে চলে আসেন। গ্রামে ফিরে তিনি প্রথমেই নিজ এলাকার কৃষকদের সমস্যা সমাধানে আত্মনিয়োগ করে কমিউনিস্ট পার্টি প্রভাবিত কৃষক সমিতি সংগঠিত করেন। এ সময় তিনি জগন্নাথপুর থানা পাওয়ার পাম্প সমিতি গঠন করেন। এর সভাপতি হন মীর্জা আবদুল ওয়াহিদ ও সাধারণ সম্পাদক হন সৈয়দ আবদুল হান্নান নিজে।

এরপর জগন্নাথপুর থানার নয়টি ইউনিয়নের জন্য নয়টি ডিজেল চালিত পাওয়ার পাম্প সংগ্রহ করেন। এর ফলে ১৯৬৫ সালের মধ্যে জগন্নাথপুর থানার অধিকাংশ আমন জমি বোরোতে রূপান্তরিত করা সম্ভব হয়। ফলে এই অঞ্চলে ফসলের উৎপাদন যেমন বৃদ্ধি পায় তেমনি খাদ্যাভাব অনেকটা দূর হয়। এর পূর্বে প্রায় প্রতি বছরই এ অঞ্চলে বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে খাদ্য সংকট লেগে থাকতো। এসব কাজের পাশাপাশে সৈয়দ আবদুল হান্নান বাঙালির জাতীয় স্বাধীকার অর্জন কৃষক শ্রমিকের উন্নত জীবন ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংগঠিত করতে থাকেন কমিউনিস্ট পার্টি ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)ও গণসংগঠন কৃষক সমিতি। এভাবে দিনরাতের কঠোর পরিশ্রমে তিনি নিজ এলাকাকে প্রগতিশীলদের একটি শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত করেন।

শুধু তাই নয় সৈয়দ আবদুল হান্নান নিজ বাড়িতে আত্মগোপনে থাকা বহু প্রগতিশীল রাজনীতিবিদদের আশ্রয় দিয়ে থাকতেন। সাম্প্রদায়িক দাঙা বিরোধী আন্দোলন, বাঙালীর স্বাধিকার আন্দোলন ছয় দফা ও এগার দফা আন্দোলন উনসত্তরের গণআন্দোলনে তিনি বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে অন্যতম মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে সৈয়দ আবদুল হান্নান ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) মনোনীত প্রার্থী হিসাবে জগন্নাথপুর দক্ষিণ সুনামগঞ্জ আসনে নির্বাচন করেন। তৎকালীন অগ্নিকন্যা খ্যাত মতিয়া চৌধুরী তার নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন।

নির্বাচনের পর পাকিস্তানী কায়েমী চক্র বাঙালীদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে শুরু করে টালবাহানা। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানের সমাবেশ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করলেন “এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম…” শুরু হয়ে গেলো বাঙালীর স্বাধীনতা সংগ্রাম মুক্তিযুদ্ধ। সৈয়দ আবদুল হান্নান বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি ভারতে চলে যান। মেঘালয়ের মাইলাম বালাট ক্যাম্পের অধিনে কাজ শুরু করেন। পরে তিনি জীবন বাঁজি রেখে মুক্তিযুদ্ধের কাজে গোপনে বিভিন্ন ক্যাম্পে যোগাযোগ করে গেরিলা যুদ্ধা হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ভারতে গিয়ে মুক্তি বাহিনীতে যোগ দেয়ার কারণে পাকিস্তানি বাহিনী কয়েকবার তার গ্রামের বাড়িতে অভিযান চালায়। গ্রামের মানুষের সহযোগীতায় তার বাড়িঘর পাক বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পায়।

১৯৭৭ সালে সৈয়দ আবদুল হান্নান সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তার আমলে অত্র ইউনিয়নে নানা উন্নয়ন কর্মকান্ডের পাশাপাশি কৃষিতে বিপ্লব সাধিত হয়। উৎপন্ন হয় রেকর্ড পরিমাণ ধান নানা ধরনের শাক সবজি খাদ্য শস্য। তার কর্মের স্বীকৃতি হিসাবে সৈয়দ আবদুল হান্নান ১৯৭৮ সালে শ্রেষ্ট চেয়ারম্যান হিসাবে রাষ্ট্রপতি পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া তাকে ২০১১ সালে তিনি ধরিত্রী বাংলাদেশ -১৪১৭ বঙ্গাব্দ সম্মাননা প্রদান করা হয়। সৈয়দ আবদুল হান্নান একজন সৎ আদর্শবান রাজনীতিবিদ। সারাজীবন তিনি তার আদর্শে অবিচল থেকে ন্যাপের পতাকাতলে কাটিয়েছেন। কোনো লোভ প্রলোভন ক্ষমতার মোহ তাকে কাবু করতে পারে নি। বিভিন্ন সময় বিশেষ করে জিয়া ও এরশাদের আমলে তাকে দলে টানার চেষ্টা করা হয়েছে সর্বোচ্চ মহল থেকে। কিন্তু কোনো লোভ প্রলোভন কাজে আসে নি। রাজনৈতিক কর্মকান্ডের পাশাপাশি তিনি একজন সমাজসেবী ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব। অসংখ্য স্কুল কলেজ মাদ্রাসা মসজিদ প্রতিষ্ঠায় রেখেছেন অনন্য অবদান। সামাজিক উন্নয়নমুলক নানামুখি কার্যক্রমে নিরলসভাবে কাজ করেছেন।

প্রগতিশীল রাজনীতির পাশাপাশি সাংবাদিকতায়ও ছিল সৈয়দ আবদুল হান্নান এর পদচারণা। ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন দৈনিক সংবাদ এর সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি। এ ছাড়া সাপ্তাহিক যুগভেরী ও সাপ্তাহিক একতা ‘র প্রতিনিধি ছিলেন তিনি।

দেশের অনেক খ্যাতিমান সাংবাদিকদের সাথে তার ছিল জানাশুনা। অনেকেই তার বাড়ীতে গেছেন। রাজনীতিবিদদের মধ্যে বরুন রায়, আব্দুস সামাদ আজাদ, দেওয়ান ফরিদ গাজী, পীর হাবিবুর রহমান, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, মনিরুল ইসলাম চৌধুরী, আব্দুল হামিদ, নুরুল ইসলাম নাহিদ প্রমুখের সাথে তার ছিল ঘনিষ্ঠতা।ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) প্রধান অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের তিনি ছিলেন ঘনিষ্ঠ সহচর। ন্যাপ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যসহ বিভিন্ন সময় সুনামগঞ্জ মহকুমা জেলা ন্যপ এর সভাপতি সম্পাদক এর দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। সৈয়দ আবদুল হান্নান দীর্ঘ দিন থেকে পালন করেছেন সিলেট জেলা ন্যাপ এর সভাপতির দায়িত্ব। তিনি ১৪ দলীয় জোটেরও অন্যতম নেতা। রাজনীতির মাঠের এই নিবেদিত প্রাণ মানুষ সৈয়দ আবদুল হান্নান ১৯৫৯ সালে সৈয়দা দিলারা বেগমের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের চার ছেলে ও তিন মেয়ে। ছেলে মেয়ে সবাই দেশে বিদেশে কর্মক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। তার বড় ছেলে সৈয়দ হাসান আহমদ যুক্তরাজ্য প্রবাসী প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। ২য় ছেলে সৈয়দ হোসেন আহমদ কানাডা প্রবাসী। ৩য় ছেলে সৈয়দ মহসীন আহমদ খ্যাতিমান আইনজীবি ও সিলেট ল কলেজের অধ্যক্ষ। ৪র্থ ছেলে সৈয়দ সুয়েব আহমদ ও আইনজীবি।

সৈয়দ আবদুল হান্নানের বড় মেয়ে ডাঃ সৈয়দা রাজনা বেগম। যুক্তরাজ্য প্রবাসী খ্যাতিমান গাইনী রোগ বিশেষজ্ঞ। তার স্বামী ডাঃ মুজিবুল হক যুক্তরাজ্য প্রবাসী শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ। বর্তমানে তারা দু’জন সুলতানাত অব ওমানে কর্মরত।

২য় মেয়ে যুক্তরাজ্য প্রবাসী সৈয়দা রেখা বেগম। সাবেক জি এস সিলেট সরকারী মহিলা কলেজ। তাছাড়া যুক্তরাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রীধারী রেখা কর্মজীবনে প্রী স্কুল ম্যানেজার। তার স্বামী সাবেক ছাত্রনেতা সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক, সাধারণ সম্পাদক যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ। তাছাড়া লন্ডনের গ্রীন উইচ ইউনিভার্সিটি থেকে পি জি সি ডিগ্রীধারী ফারুক ব্রিটেনের মুলধারার একজন কোয়ালিফাইড টিচার । ৩য় মেয়ে ব্যাংকার সৈয়দা রুবানা বেগম। তার স্বামী মাহবুব আহমদ চৌধুরী গ্রুপ ক্যাপ্টেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনী।

আজীবন মানুষের কল্যাণে নিবেদিত প্রাণ সদাহাস্যময় অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ আবদুল হান্নান এখন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় সিলেটের শাহী ঈদগাহ ‘র সৈয়দপুর হাউসের বাসভবনে শয্যাশায়ি। নীরবে নিভৃতে অতিবাহিত হচ্ছে তার দিন। গত দুই মাসের ব্যবধানে তিনি হারিয়েছেন তার ছোট দুই ভাই সৈয়দ আবদুর রহমান ও সৈয়দ আতাউর রহমানকে। তাদের মৃত্যুতে তিনি শারিরিক মানসিকভাবে আরও ভেঙে পড়েছেন।

আজীবন সংগ্রামী সদাহাস্যময় রাজনৈতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ আমার মামা সৈয়দ আবদুল হান্নান এখন জীবন সায়েহ্নে । এই অবস্থা থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা হয়ত দুস্কর। সবাই মানবতাবাদি এই মানুষটির জন্য দোয়া করবেন ,আল্লাহ্ যেন তার এই বান্দাকে হেফাজত করেন।

লেখক: সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও পর্যটক।

Print Friendly and PDF

ফেইসবুকে আমরা