এই মাত্র পাওয়া :

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২১

বগুড়ার শেরপুরে ব্যবসায়ী হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন

বাড়ির জায়গা ও টাকা নিয়ে বিরোধে ব্যবসায়ী ফরিদুলকে খুন করে পরিবারের লোকজন, গ্রেফতার ৫

বিভাগ : চারপাশ প্রকাশের সময় :১৩ জানুয়ারি, ২০২১ ৪:২২ : অপরাহ্ণ

বগুড়া প্রতিনিধি :

বগুড়ার শেরপুরে ব্যবসায়ী ফরিদুল ইসলাম হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত ৫জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাড়ির জায়গা ও ৩ লক্ষাধিক টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে নিজ পরিবারের সদস্যরা ফরিদুলকে (৪৮) কুপিয়ে খুন করে। খুনের সাথে জড়িত নিহতের আপন ভাই, ভাবী, ভাতিজা, চাচা ও শ্যালককে গ্রেফতার করেছে। হত্যাকান্ডের মাত্র ৭ দিনের ব্যবধানে ক্লুলেস এই হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন এবং জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হলো বগুড়া জেলা পুলিশ। বুধবার দুপুরে বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান।
হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতারকৃতরা হলেন নিহত ফরিদুলের চাচা আব্দুর রাজ্জাক(৫৮), ছোট ভাই জিয়াউর রহমান জিয়া (৪৫), ভাতিজা ফারুক আহম্মেদ(২৫), ভাবী শাপলা খাতুন (৩৫) ও শ্যালক ওমর ফারুক (৩৫)।
গত ৫ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৭ টায় শেরপুর উপজেলার ইটালী মধ্যপাড়ার নিজ বাড়িতে নৃশংস ভাবে খুন হন ব্যবসায়ী ফরিদুল ইসলাম। এঘটনায় পরদিন নিহতের স্ত্রী ইসমত আরা বাদি হয়ে অজ্ঞাত আসামীদের নামে শেরপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঁঞা জানান, হত্যাকান্ডের পর পুলিশ কোন ক্লু পাচ্ছিলো না। এরই মাঝে গত ৮ জানুয়ারি পুলিশের কাছে একটি অপহরণের তথ্য আসে। নিহত ফরিদুলের শ্যালক ওমর ফারুককে অপহরণ করা হয়েছে বলে তার স্ত্রীর কাছে ফোন আসে। পুলিশ অপহৃত ওমর ফারুককে মানিকগঞ্জ থেকে উদ্ধারের পর জানতে পারেন তিনি স্বেচ্ছায় আত্মগোপন করে অপহরণ নাটক সাজিয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদে ওমর ফারুক তার ভগ্নিপতি ফরিদুল খুনের বিষয়টি পুলিশকে জানায়। ওমর ফারুক পুলিশকে জানায়, ভগ্নিপতিকে খুনের পর তিনি মানসিক অস্থিরতায় ভুগছিলেন। অপহরণ নাটক সাজিয়ে তিনি নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করেন। ওমর ফারুকের দেয়া তথ্য অনুযায়ী পুলিশ অপর চারজনকে গ্রেফতার করে।
পুলিশ সুপার আরো জানান, গ্রেফতারকৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, নিহত ফরিদুল তার মায়ের সম্পত্তি থেকে ভাইবোনদের বঞ্চিত করে। মায়ের মৃত্যুর দুই বছর পর তিনি একটি দলিল বের করে দাবি করেন, মায়ের সকল সম্পত্তি তাকে লিখে দেয়া হয়েছে। এনিয়ে পুরো পরিবারের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এছাড়াও তিন লাখ টাকায় জমি বন্ধক নেয়াকে কেন্দ্র করে শ্যালক ওমর ফারুকের সাথে ফরিদুলের বিরোধ দেখা দেয়। একারণে তারা ফরিদুলকে খুনের পরিকল্পনা করে। গত ২৮ ডিসেম্বর স্ত্রী-সন্তান ঢাকায় যাওয়ায় ফরিদুল বাড়িতে একাই ছিলেন। এই সুযোগ কাজে লাগায় তারা। ঘটনার দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় তার ভাতিজা ফারুক আহম্মেদ চাকু নিয়ে ফরিদুলের বাড়িতে ঢোকে। সন্ধ্যা ৭টার দিকে ফরিদুল বাড়িতে প্রবেশ করলে ফারুক তার মাথায় ছুরিকাঘাত করে। এসময় ফরিদুলের চাচা, ভাই ভাবী সেখানে গিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে তারাই পুলিশকে খুনের সংবাদ দেয় এবং ফরিদুলের মরদেহ উদ্ধার এবং দাফন কাফনের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
পুলিশ সুপার বলেন, বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজিউর রহমানের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে জড়িত সকল আসামীকে গ্রেফতার করে। তাদের আদালতে হাজির করে রিমান্ডে নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।


Print Friendly and PDF

ফেইসবুকে আমরা