এই মাত্র পাওয়া :

ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাণ্ডব : নতুন ১২জনসহ ৩১০ জন গ্রেপ্তার

বিভাগ : সংবাদ প্রকাশের সময় :১৯ এপ্রিল, ২০২১ ৯:২৭ : অপরাহ্ণ

এইচ.এম. সিরাজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:

হেফাজতের বিক্ষোভ মিছিল, হরতাল ঘিরে সৃষ্ট তাণ্ডবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কার্যত অচল। গোটা জেলা শহরটি এখনো বয়ে বেড়াচ্ছে ধ্বংসের ক্ষতচিহ্ন। ঘটনার তিন সপ্তাহ হলো অতিক্রান্ত, ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট রেলপথে চলাচলকারী কোনো ট্রেনেরই যাত্রাবিরতি নেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। কারণ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনসহ এখানকার ত্রিশটিরও বেশি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ ঘটিয়ে চালানো হয় নারকীয় তাণ্ডব। এসব ঘটনায় জেলার চারটি থানায় দায়ের হয়েছে ৫৬ মামলা। নতুন করে গ্রেপ্তার হয়েছে আরও ১২ জন। এই নিয়ে গ্রেপ্তারের সংখ্যা হলো ৩১০ জনে উন্নীত।
প্রকাশ, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকে ঘিরে আন্দোলনে নামে হেফাজতে ইসলাম। তাদের আন্দোলন চলাকালে চট্টগ্রামে মাদ্রাসাছাত্র নিহত হবার জেরে ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসের সুবর্ণজয়ন্তী দিনের বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাণ্ডব চালায় হেফাজতের কর্মী-সমর্থকেরা। শহরের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ভাঙচুর চালানোসহ জ্বালিয়ে দেয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশন, নিহত হয় এক যুবক। ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে ওঠে উত্তাল। এরই জেরে ২৮ মার্চ দেশব্যাপী হরতাল আহবান করে হেফাজতে ইসলাম। এই হরতালকে ঘিরে চালানো হয় আরও নারকীয়তা। হামলা-ভাঙচুর থেকে বাদ যায়নি ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব এমনকি সাংবাদিকরাও। ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশন, দেড়শ’ বছরেরও অধিক পুরনো ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা কার্যালয়, আলাউদ্দিন খাঁ পৌর মিলনায়তন, বঙ্গবন্ধু স্কয়ারে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল, জেলা পরিষদ কার্যালয়, জেলা পরিষদ ডাকবাংলো, সদর উপজেলা ভূমি অফিস, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বর, সুরসম্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব, পুলিশ সুপার কার্যালয়, সিভিল সার্জন কার্যালয়, মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়, সরকারি গণগ্রন্থাগার, জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়, দলের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দের বাড়িঘর,  খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানাসহ ত্রিশটিরও বেশি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করে তাণ্ডব চালায় হামলাকারীরা। পুড়িয়ে দেয়া হয় অসংখ্য গাড়ি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরটিকে কার্যত অচল করে দেয়া হয়। এসব ঘটনায় রেলওয়ে থানায় একটিসহ এ পর্যন্ত ৫৬ টি মামলা দায়ের এবং গ্রেপ্তার হয়েছে ৩১০ জন।
পুলিশ জানায়, রোববার (১৮ এপ্রিল) সকালের পর থেকে সোমবার সকাল নাগাদ পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে নতুন করে আরো ১২ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। এই নিয়ে গ্রেপ্তারের সংখ্যা উন্নীত হলো ৩১০ জনে। অথচ এযাবৎ হেফাজতের উল্লেখযোগ্য কোনো নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। সহিংস ঘটনাসমূহের প্রাপ্ত স্থিরচিত্র এবং ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করেই অভিযুক্তদের সনাক্ত করা হচ্ছে বলে পুলিশ দাবী করছেন। তবে গ্রেপ্তারের নামে বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষকে হয়রনি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ মিলছে। এদিকে ২৬-২৮ মার্চ তাণ্ডবের ঘটনায় সর্বশেষ আররকটি মামলা দায়ের হয়েছে আশুগঞ্জ থানায়। এই নিয়ে মামলার সংখ্যা উন্নীত হলো ৫৬টিতে। এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় ৪৯টি, আশুগঞ্জ থানায় চারটি, সরাইল থানায় দুইটি এবং আখাউড়া রেলওয়ে থানায় একটি। পুলিশ বাদী হয়ে এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষে দায়েরকৃত এসব মামলায় আসামী করা হয়েছে ৩৫ সহস্রাধিক মানুষকে। তবে এসবে নামোল্লেখ করা হয়েছে মাত্র ৪১৪ জনের। বাকি সবাই ‘অজ্ঞাতনামা দুস্কৃতিকারী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয় মামলার আরজিতে। এ সকল মামলার বিপরীতে এ পর্যন্ত ৩১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জেলা পুলিশ নিশ্চিত করেছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মো. আনিসুর রহমান বলেন, পুলিশ ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্র দেখেই আসামীদের গ্রেপ্তার করছে। এছাড়াও যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে, যাতে কোনো নিরীহ মানুষ হয়রানির শিকার না হন।

Print Friendly and PDF

ফেইসবুকে আমরা