এই মাত্র পাওয়া :

ঢাকা, রোববার, ৭ মার্চ ২০২১

রাবি কুষ্টিয়া জেলা ছাত্র-কল্যাণ সমিতি পরিবারের সঙ্গে একদিন

বিভাগ : ফিচার প্রকাশের সময় :১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১২:১৫ : পূর্বাহ্ণ



রাবি প্রতিনিধি :

দিনটি ১০ ফেব্রুয়ারি। বসন্তের ঠিক তিন দিন আগে। শীতের তীব্রতা বেশ কম। করোনা মহামারীর কারণে এখনো বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। বন্দী অলস সময়ে বিনোদন পেতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি আয়োজন করেছিল নৌকা ভ্রমণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের।

অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে খুব সকালে সবাই হাজির কুষ্টিয়ার গড়াই নদীর তীরে। সবার উদ্দেশ্য পদ্মা-গড়াই- এর মোহনায় ভ্রমণ। আগে থেকেই নৌকা ঠিক করা ছিল। আনুুমানিক সকাল সাড়ে দশটায় মাঝি তার ইঞ্জিন চালিত নৌকা চালু করলেন। শুরু হলো যাত্রা।

অনেক দিন পর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিত মুখগুলো একজায়গায় জমায়েত হয়েছে। জমে উঠেছে আড্ডা, গানসহ হৈ-হুল্লোড়। সঙ্গে ছবি তোলাও ছিল। এভাবেই চলতে শুরু করলো সবাই। তবে এর সঙ্গেও ছিল আতঙ্ক! অনেকের মুখে যদি নৌকা ডুবে যায়, সাঁতার জানি না কি হবে? হটাৎ করেই নৌকা দুলে উঠলো। সবাই ভয় পেয়ে গেছে। এমনকি যে সাঁতার জানে সেও। কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির সভাপতি সকলকে নৌকার মাঝে আসার জন্য বললেন। তবে সবাই এটা বুঝেছিলেন যে তারা পদ্মার মোহনায় চলে এসেছেন। কিছুক্ষণ পর নৌকা আবার স্বাভাবিক হলো। মাঝি নৌকাটি একাটা চরে দাঁড় করালেন। সবাই নৌকা থেকে নামলাম। আর হাফ ছেড়ে বাঁচলাম!

চরে নেমে দেখলাম প্রায় কয়েকশো মহিষ জল পান করছে। আমরা অনেকেই তাদের ছবি ওঠালাম। এর কিছুক্ষণ পর চরের ওপর শুরু হলো ঝুড়িতে বল নিক্ষেপ খেলা। খেলাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট – বড়, ছেলে – মেয়ে সকলেই অংশ নিতে পারবে। শুরু হলো খেলা। একের পর এক সবাই বল নিক্ষেপ করছে। প্রথম দশ-পনেরো জনের মধ্যে কেউ বল ঝুড়িতে ফেলতে পারলো না। হটাৎ একজন ছেলে ফেলে দিয়েছে। এভাবে আরো কয়েকজন। খেলায় প্রথম, দ্বিতীয় খুব সহজে নির্ধারণ করা গেলেও মজা হয়েছিল তৃতীয় স্থানে নির্ধারণে। এক জন ছেলে আর দুই জন মেয়ের মধ্যে শুরু হয় তৃতীয় স্থান নির্ধারণি খেলা। কিন্তু কেউ বল ঝুড়িতে ফেলতে পারে না। তাদের সকলকে একাধিকবার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কেউ না পারায় যৌথভাবে তিনজনকেই বিজয়ী করা হলো। খেলা শেষে আবার পাড়ি জমালাম ফেরার পথে।


তবে সবচেয়ে বেশি ভালো সময় গেছে যখন নৌকার উপর শুরু হয় গান। গানের বাদ্যজন্ত্র ছিল পানির বোতল, প্লাস্টিকের কাপ, আর হাতের তালি। মিরাজ ভাই, সাকিল ভাই, আকাশ ভাই, সুমন, জুবায়ের এরা সবাই সেখানে বাদক, সবাই গায়ক। শুধু একজনকে একটা শুরু ধরিয়ে দিতে হবে। তারপর এমনিতেই বাজতে থাকবে। গান গাইতে গাইতে পৌঁছে গেলাম যাত্রার কাছে।

এরপর জেলা সভাপতি মিরাজ ভাই বললেন দুপুর দুইটার দিকে হবে দুপুরের খাবার। আমরা সবাই দুইটার আগেই খাবারের জায়গায় চলে আসলাম। হাত ধুয়ে বসে আছি খাবার আসছে। প্রথমে আধাঘন্টা বসে থাকলাম খাবারের আশায়। কিন্তু খাবার আসে না। সকলে ক্ষুধার চরম পর্যায়ে চলে গেছে। কিন্তু তারপরও প্রায় দেড় ঘন্টা পর খাবার পেলাম। তবে এটাও সত্য যে অনেক সময় খাবার সামনে আসলেও খাওয়া যায় না। সবার আগে খাবারের প্লেট পেয়েছিলাম। কিন্তু শুরু করতে পারি নাই। চক্ষু লজ্জার কারণে।

মধ্যাহ্ন ভোজের শেষ। আধাঘন্টা পর শুরু হলো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। দুষ্টু, মিষ্টি ও রসাত্মক কথায় অনুষ্ঠানের আনন্দের মাত্রাটাকে বাড়িয়ে দিয়েছিলেন সাকিল মিরাজ ভাই। তবে উপম চক্রবর্তী, অনু, পাপরি সাহা আপুর গান কম আনন্দ দেয় নি। অবশ্য তার আগে সকলেই দীর্ঘ দশ মাসের ঘর বন্দী করোনা অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। পরবর্তীতে শুরু হয় লটারির র্যাফেল ড্র এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। আর অনুষ্ঠানের ইতি টানা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগে শিক্ষার্থী উপমা আপুর ‘আমি বাংলায় গান গায়’ গানের মধ্য দিয়ে।

এমন সংকটকালীন পরিস্থিতির মধ্যে এমন আনন্দের দিন আর কোনোদিন পাব কিনা তা জানি না। তবে আমাদের সকলের কটায় স্লোগান ‘লালনের গানে গড়াই এর পাড়ে, আমরা কুষ্টিয়াবাসী’ এবং রাবির কুষ্টিয়া জেলা ছাত্র-কল্যাণ সমিতি একটা পরিবার।

Print Friendly and PDF

ফেইসবুকে আমরা