এই মাত্র পাওয়া :

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ মার্চ ২০২১

সিলেটে ত্রিমুখী সংঘর্ষ : তিন মামলায় আসামি ৩১৮

বিভাগ : চারপাশ প্রকাশের সময় :১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ৫:৫১ : অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

সিলেট নগরের চৌহাট্টায় সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনায় তিনটি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে দুটি মামলার বাদী পুলিশ। দ্রুত বিচার আইনে করা অপর মামলাটি সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে করা হয়েছে। এসব মামলায় মোট ৩১৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) গণমাধ্যম শাখা থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এসএমপি সূত্র জানিয়েছে, বুধবার রাতে কোতোয়ালী মডেল থানায় এসব মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশের দুই মামলার বাদী দুজন এসআই। আর সিটি করপোরেশনের মামলার বাদী একজন প্রকৌশলী।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আবু ফরহাদ জানান, এসআই মোস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে একটি মামলা করেছেন। মামলা নম্বর ৫০। মামলাটি তদন্ত করছেন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জহিরুল ইসলাম। এই মামলার একমাত্র আসামি ফয়সল ফাহাদ (৩৮)। তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

ওসি জানান, এসআই আব্দুল মান্নান বাদী হয়ে পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নম্বর ৫১। ওই মামলা ১৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছেন থানার এসআই শেখ মিজানুর রহমান।

তিনি জানান, চৌহাট্টায় সংঘর্ষের ঘটনায় সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। মামলাটির বাদী সিসিকের উপ-সহকারী প্রকৌশলী দেবব্রত দাস। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। নামোল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছেন এসআই রেজাউল করিম।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১টার দিকে সিলেট নগরের চৌহাট্টা এলাকায় মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারের অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদে গিয়ে হামলার মুখে পড়েন মেয়র ও সিলেট সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ সময় পুলিশ বাঁধা দিলে পুলিশের ওপরও হামলা করে শ্রমিকরা। একপর্যায়ে ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়। এতে কাউন্সিলর-পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। এ সময় অর্ধশতাধিক গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
পরে চৌহাট্টা থেকে পরিবহন শ্রমিকদের একটি দল ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের চন্ডিপুল, হুমায়ুন রশিদ চত্ত্বর ও ওসমানীনগর থানা এলাকায় এসে অবস্থান নেয়। সেখানে তারা সড়কে গাড়ি রেখে অবস্থান নেয়। তারা চৌহাট্টায় ঘটে যাওয়া ঘটনায় ক্ষতিপূরণ ও পূর্বের স্থান স্ট্যান্ডের জন্য বহাল রাখার দাবি জানান। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা রাস্তা বন্ধ করে রাখার হুঁশিয়ারি দেন। পরে শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।

এদিকে গাড়ি ভাঙচুরের প্রতিবাদ ও আগামী রোববারের (২১ ফেব্রুয়ারি) মধ্যে মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকারের স্ট্যান্ডের জন্য জায়গা বরাদ্দ না দিলে আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি সোমবার থেকে সিলেট পরিবহন ধর্মঘট কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।


Print Friendly and PDF

ফেইসবুকে আমরা