এই মাত্র পাওয়া :

ঢাকা, শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১

ভোলার মেঘনা-তেতুলিয়া নদীতে ইলিশের আকাল জেলে পল্লিতে হাহাকার

বিভাগ : ফিচার প্রকাশের সময় :১৭ জুলাই, ২০২১ ৩:৪৮ : অপরাহ্ণ

ভোলা জেলা প্রতিনিধি :
ভোলার মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীতে রূপালী ইলিশের আকাল দেখা দিয়েছে। মাছ না থাকায় জেলে পল্লি­গুলোতে হতাশার ছাপ পরেছে। আড়তদার, দাদন ও এনজিওর দেনার চাপের মুখে বিভিন্ন ঘাটের জেলেরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে। অনেেেক-আড়তদার, দাদন ও এনজিওর সাপ্তাহিক কিস্তির টাকা এবং মা-বাবা,ভাই-বোন, স্ত্রী সন্তানের ভরন পোশনে হিমশিম খেয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। ভোলা জেলার ৭ উপজেলার প্রায় ৫ লক্ষাধীক জেলে পরিবারের করুন হাহাকার চলছে।
শনিবার (১৭ জুলাই) ভোলা সদরের জেলে শাহাবুদ্দিন, দৌলতখানের আড়তদার আঃহাই, তজুমদ্দিনের সাংবাদিক আলআমিন, বোরহান উদ্দিনের হেলাল মুন্সি, লালমোহনের মিজানুর রহমান, চরফ্যাশনের মামুন এবং মনপুরার আমির হাওলাদারের সাথে আলাপ করে জানা যায়, ভোলা জেলায় মাছ ধরার পেশায় প্রায় ৫ লক্ষাধীক জেলে রয়েছে। সরকারী ভাবে নিবন্ধনকৃত জেলে রয়েছে প্রায় ২ লাখ। তার সাথে প্রায় ২শত মাছ ঘাটে ও আড়তে ৫ লক্ষাধীক শ্রমিক রয়েছে। বৈশাখ মাস থেকে ইলিশের ভরা মৌসুম শুরু হলে জেলেরা মহাজনের কাছ থেকে-জাল, তৈল, খাবার নিয়ে বারবার নদীতে গিয়ে শূন্য হাতে ফিরে আসায় মহাজনের দেনা, দাদন ও এনজিওর সাপ্তাহিক কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে পারেননি। মা-বাবা,ভাই-বোন,স্ত্রী-সন্তানদের সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন অনেক জেলে। ভোলার খাল ঘাটের শাহাবুদ্দিন মাঝি জানান, ১০/১২ জন মাল্লা নিয়ে ঘাট থেকে ৭০ হাজার টাকা বাজার নিয়ে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে একগইন (এক সপ্তাহ) যাই। গইন শেষে মাত্র ৪ হাজার টাকার ইলিশ মাছ বিক্রি করেছি। দৌলতখানের আবু মাঝি জানান, প্রায় ৬৫ হাজার টাকার বাজার নিয়ে মেঘনায় মাছ ধরতে গিয়ে ৫ দিনে ৫ হাজার টাকার মাছ বিক্রি করেছি। কালাম মাঝি জানান, ২৫ লাখ টাকা ব্যয় করে ট্রোলার তৈরি করে মাছ ধরার প্রস্তুতি নিয়েছি,এখন নদীতে মাছ-ই নেই, ট্রোলারর ১৫জন লোক বেকার বসে আছি। মাছ ধরার সাথে জড়িত প্রত্যেক জেলে, আড়তদার ও কর্মচারিরা দেনার ভয়ে পরিবার-পরিজন ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। চলতি মৌসুমে পহেলা মে থেকে জেলেরা নদীতে মাছ ধরা শুরু করেছে। প্রায় দু’মাস অতিক্রম হলেও নদীতে কোনো মাছ নাই। সরকারিভাবে গভীর সমুদ্রে আগামী ২৩ জুলাই পর্যন্ত মাছ ধরা নিষিদ্ধ রয়েছে। ফলে জেলে পল্লিতে চলছে হাহাকার।
প্রবীন জেলে শফিল জানান, মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীতে কারেন্ট, চায়না, বাধা, বেহন্দি জাল দিয়ে ইলিশের পোনা(জাটকা) নিধনের ফলে মাছের উৎপাদন কমে গেছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক র্দূযোগের কারনে সাগরের ইলিশ মেঘনা ও তেতুলিয়ায় আসার গতিপরিবর্তন করেছে। তা ছাড়া মেঘনা ও তেতুলিয়ায় ডুবোচর, মাছের চ্যানেলে লঞ্চ ও জাহাজ চলাচলের করনে সাগর থেকে ইলিশ আসতে বাধা প্রাপ্ত হয়ে মেঘনা ও তেতুলিয়া নদী মাছ শুন্য হয়ে পরেছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা- মোঃ এইচ এম আজহারুল ইসলাম জানান, চলতি বছরে পর্যাপ্ত ভারী বৃষ্টি না হওয়ার কারনে মেঘনা ও তেতুলিয়ায় ইলিশ মাছ আসছেনা। তার পরেও জলবায়ুর প্রভাবও রয়েছে, তবে শিগ্রই মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীতে ইলিশের দেখা মিলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Print Friendly and PDF

ফেইসবুকে আমরা