বরগুনার বামনা উপজেলার এক প্রবাসী মা সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেছেন, আদালতের আদেশে জিম্মায় ফিরে পাওয়া তার ১৪ বছর বয়সী মেয়েকে প্রকাশ্যে হামলা চালিয়ে পুনরায় অপহরণ করা হয়েছে| এ সময় তাকে ও তার ¯^ামীকে মারধর করা হয় এবং বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা, ¯^র্ণালঙ্কার, পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি| ১৮ জুলাই শনিবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বামনা উপজেলার পূর্ব সফিপুর গ্রামের বাসিন্দা মোসাঃ সুলি আক্তার (৪৮)| তিনি বলেন, তিনি প্রায় ১৮ থেকে ২০ বছর এবং তার ¯^ামী প্রায় ৩০ বছর সৌদি আরবে প্রবাস জীবন কাটিয়েছেন| তাদের দুই ছেলে ও এক মেয়ের জন্মও সৌদি আরবে| প্রায় দুই বছর আগে স্থায়ীভাবে দেশে ফিরে এসে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে ফারহানা আক্তার সুমাইয়া (১৪)-কে নিয়ে নিজ বাড়িতে বসবাস শুরু করেন|
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, প্রায় তিন মাস আগে বামনা উপজেলার পূর্ব সফিপুর গ্রামের শাহারিয়ার রাফি তার মেয়েকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যায়| এ ঘটনায় তিনি বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন| আদালতের নির্দেশে পিবিআই মেয়েটিকে উদ্ধার করে আদালতে হাজির করলে প্রথমে তাকে নিরাপদ আবাসনে পাঠানো হয়| পরে গত ১২ জুলাই ২০২৬ আদালত মেয়েটিকে মায়ের জিম্মায় প্রদান করেন|
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও জানান, একই দিন দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী মেয়েকে নিয়ে সিএনজিযোগে বরিশাল হয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন| পথে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার বাটামারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে কয়েকজন তাদের পথরোধ করে|
তার অভিযোগ, শাহারিয়ার রাফির নেতৃত্বে আমজেদ আলী খান, শামীম খান, রুমি বেগম, রুহুল আমীনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১২ থেকে ১৩ জন সিএনজি থামিয়ে জোরপূর্বক তার মেয়েকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে| বাধা দিতে গেলে তাকে সিএনজি থেকে টেনে নামিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হাতে আঘাত করা হয়| এরপর তার অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে মোটরসাইকেলে তুলে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়|
তিনি আরও দাবি করেন, হামলার সময় তার ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়| ব্যাগে থাকা ৯টি পাসপোর্ট, নগদ ২ লাখ ৮৭ হাজার টাকা, প্রায় ১৩ লাখ ৯২ হাজার টাকা মূল্যের ¯^র্ণালঙ্কার এবং একটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায় হামলাকারীরা| এ সময় তার ¯^ামীকেও মারধর করা হয়| স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়|
আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে মির্জাগঞ্জ উপজেলা ¯^াস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়| এ ঘটনায় তিনি মির্জাগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন বলে জানান|
সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সুলি আক্তার বলেন, আমি একজন অসহায় মা| আদালতের জিম্মায় ফিরে পাওয়া আমার অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে প্রকাশ্যে আমার বুক থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে| আমি আমার মেয়ের নিরাপদ উদ্ধার এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই|
তিনি প্রশাসনের প্রতি চারটি দাবি জানান অপহৃত কিশোরী ফারহানা আক্তার সুমাইয়াকে দ্রুত জীবিত ও নিরাপদে উদ্ধার করতে হবে| হামলা, অপহরণ ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত সকল আসামিকে অবিল¤ে^ গ্রেপ্তার করতে হবে| ছিনিয়ে নেওয়া নগদ অর্থ, পাসপোর্ট, ¯^র্ণালঙ্কার ও অন্যান্য মালামাল উদ্ধার করতে হবে| নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে|
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে তিনি দেশবাসী, প্রশাসন ও সরকারের কাছে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান|