পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার আলোচিত প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বাবুল চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে তাঁকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। গত ২৩ জুন ত্রাণ প্রশাসন শাখা এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। দেবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সামনে বিভিন্ন ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানদের মধ্যে এ নিয়ে নানা কানাঘুষা চলছে। তাঁরা বলছেন, পিআইও বাবুল চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে তাঁকে এভাবে মন্ত্রণালয়ে প্রত্যাহার করে নেওয়া ঠিক হয়নি।
বর্তমান কর্মস্থল পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা থেকে বদলি করে তাঁকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বাবুল চন্দ্র রায়কে আগামী ২৪ জুনের মধ্যে সংযুক্ত কর্মস্থলে যোগদান করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় ২৪ জুনের পর থেকেই বর্তমান কর্মস্থল থেকে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) বলে গণ্য হবেন।
উল্লেখ্য, ঘুষ গ্রহণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর এই তোড়জোড় শুরু হয়। প্রায় ৫ মিনিটের ওই ভিডিওতে পিআইও বাবুল চন্দ্র রায়কে প্রকল্প সভাপতিদের সঙ্গে কমিশনের হিসাব কষতে দেখা ও শোনা যায়। ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “মেম্বার সাহেব, আপনার ৮ টন গম না, ৪০ করে। তাহলে ৩২ ইনটু ৮, ২ লাখ ৫৬ হাজার। ইনটু ১৫ পারসেন্ট যদি দেন, ৩৮ হাজার টাকা আসে। মেম্বারদের কোনো দিন লাভ হয় না। এটা কোনো দিন শুনছেন? আপনারা বলেন, আমি যে এত দিন পিআইও গিরি করতেছি, আমাক কোনো মেম্বার বলে নাই—আমার লাভ হইছে। আমার কথা আমি বলছি, এখন আপনার কোনো কথা থাকলে বলেন।”
ভিডিওতে হিসাব কষে পিআইও বাবুল চন্দ্র রায়কে আরও বলতে শোনা যায়, “১ লাখ ৬২ ইনটু ১৫, ২৪ হাজার... শুনেন, আপনারে আগে পরিষদে আসতে দেয় নাই। এরপর থেকে আপনারাও এখন আসতে দেবেন না। শোধবোধ।” এভাবে বেশ কয়েকটি প্রকল্পের টাকা নিয়ে ক্যালকুলেটরে হিসাব কষে তিনি প্রকল্প সভাপতিদের কাছে কমিশন দাবি করেন।