রংপুর

পঞ্চগড়ে বিবাদীকে না চেনেই মামলা দিলেন বাদী, নিরীহ ব্যক্তিদের হয়রানির অভিযোগ

পঞ্চগড়ে বিবাদীকে না চেনেই ৪১ জনের নামে মামলা দিয়েছেন এক বাদী। মামলা দিয়ে এলাকার নিরীহ ব্যক্তিদের হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

এমন ঘটনা ঘটেছে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার কালীগঞ্জের প্রধানাবাদ এলাকায়। মামলায় প্রায় বেশির ভাগ বিবাদীকে চেনেন না বাদী। তারপরেও তাঁদের নামে মামলা দেওয়ায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

মামলার বাদী হলেন মোস্তাক আলী। তাঁর বাড়ি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ছিট চিলারং এলাকায়। দেবীগঞ্জ উপজেলার কালীগঞ্জের প্রধানাবাদ এলাকায় শাহনেওয়াজ ফিলিং স্টেশন নামে তাঁর একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

তিনি পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ সহকারী জজ আদালতে ৪১ জনের নামে মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নম্বর ১৬১/২০২৬।

মামলার বাদী মোস্তাক আলী বিবাদীদের না চেনার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘মামলাটি আমি দায়ের করিনি। আমার নাম ব্যবহার করে কেউ মামলাটি দাখিল করেছে।’

তবে কে মামলাটি দাখিল করেছেন, সে বিষয়ে কিছু না বলে প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়ে তিনি বলেন, ‘ধার্য তারিখের আগেই মামলাটি তুলে নেওয়া হবে। এলাকায় আমি ব্যবসা করি, আমি কারও সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করতে চাই না।’

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, দেবীগঞ্জ সহকারী জজ আদালতের ৫৭/১৮ নম্বর বাটোয়ারা মোকদ্দমার রায় ও ডিক্রি অন্যায়, অবৈধ ও যোগসাজশী। সে মামলার রায় ও ডিক্রি বাতিলের জন্য এ মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আরও জানা যায়, ৫৭/১৮ নম্বর বাটোয়ারা মোকদ্দমা বাতিলের জন্য বাদী উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। বাদী সম্পূর্ণ অসৎ উদ্দেশ্যে, পরস্পর যোগসাজশে ও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এ মোকদ্দমার বিবাদীপক্ষকে বিপদে ফেলার জন্য মামলাটি করেছেন। এ মামলার কয়েকজন বিবাদীর বাড়ি টাঙ্গাইল ও খাগড়াছড়ি জেলায়। এ ছাড়া এক বিবাদী বিদেশে অবস্থান করছেন।

মামলায় বিবাদী করা হয়েছে প্রধানাবাদ ঢাকাইয়াপাড়া এলাকার হায়াত আলী, তৈয়ব আলী, রেজাউল করিম, রমিজ উদ্দিন, নাজমা, হাজেরা আক্তার, রহিমা খাতুন, নূর বানু, কুলছুম আক্তার, আব্দুল হালিম, মোহাম্মদ আলী, ইব্রাহীম, আব্দুল আলীম, আব্দুল গফুর, আব্দুল ছবুর, আব্দুল হাকিম, আবু সাঈম, মরিয়ম বেগম, খাদিজা আক্তার, হাবিবুর রহমান, মাহবুবুল আলম, আদেশ চন্দ্র, আব্দুল মজিদ, আব্দুল হালিম, ময়জুল বেওয়া, বেলাল উদ্দিন, রহিমা বেগম, মর্জিনা বেগম, কুলছুম আক্তার, কালীগঞ্জের আব্দুল আজিজ ও আব্দুল মাজেদকে।

এ ছাড়া লোহাগাড়া এলাকার আব্দুল মোতালেব খান, আইয়ুব আলী, কাবিল উদ্দিন; টাঙ্গাইলের কালিহাতির চামুরিয়ার ছমিরন নেছা এবং খাগড়াছড়ির মাটিরাঙা উপজেলার পলাশপুর এলাকার নাজমা আক্তার, ফাতেমা আক্তার, কুলছুমা বেগম ও দেবীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রারকে বিবাদী করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী হায়াত আলীসহ অন্যরা জানান, বুধবার বিকেলে আদালত থেকে তাঁদের নামে নোটিশ আসার পর তা দেখে তাঁরা হতাশ হয়ে পড়েন। আগের মামলার রায় বাতিল করার উদ্দেশ্য এবং এর পরের ঘটনা সম্পর্কে তাঁরা কিছুই জানেন না। তাঁরা এ গায়েবি মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

 


সম্পর্কিত খবর