যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙায় জাহেদুল ইসলাম শাওন নামক এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন তাঁর স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন।
অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য জাবেদুল ইসলাম শাওন (২৮), যাঁর বিপি নম্বর—BP0020233003। বাড়ি মাটিরাঙা উপজেলার বেলছড়ি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড মাস্টারপাড়া এলাকার প্রবাসী মো. হুমায়ুন কবিরের ছেলে। বর্তমানে তিনি মাটিরাঙা পৌরসভা এলাকার মাস্টারপাড়ায় বসবাস করছেন।
তিনি বর্তমানে রাঙামাটি জেলা পুলিশের অধীনে সুশীলগঞ্জ পুলিশ লাইনে কর্মরত রয়েছেন।
এ ঘটনায় গত ২৪ সেপ্টেম্বর স্বামীর বিরুদ্ধে মাদকাসক্তি, পরকীয়া, অনলাইন ক্যাসিনোপ্রীতি এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের সুষ্ঠু তদন্ত চেয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সন্তানকে ফিরে পেতে রাঙামাটি জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন তাঁর ভুক্তভোগী স্ত্রী।
লিখিত অভিযোগে তাঁর স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন (২৬) উল্লেখ করেন, ২০২১ সালে উপজেলার বেলছড়ি ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী গ্রামের বাসিন্দা জাবেদুলের সঙ্গে পারিবারিকভাবে তাঁর বিয়ে হয়। সন্তান জন্মের ছয় মাস পর অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়ে থানায় আটক হন তিনি। পরে তাঁর শাশুড়ির নির্দেশে সোনার গহনা বিক্রি করে স্থানীয় কাউন্সিলর ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে তিন লাখ টাকা জরিমানা প্রদান করে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গাড়ি কেনার কথা বলে তাঁর পরিবারের কাছে ৮ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। তাঁর বাবা কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করায় টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। দাবিকৃত টাকা না পেয়ে তাঁকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে বলেও লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি।
অভিযোগে স্বামী মাদকাসক্ত হওয়ায় চিকিৎসার জন্য গত ১৬ মে তাঁকে চট্টগ্রামের একটি নিরাময় কেন্দ্রে (রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার) পাঠানো হয়েছিল বলে দাবি করা হয়।
পরবর্তীতে পারিবারিক বিরোধ নিরসনের লক্ষ্যে গত ১৩ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে একটি মধ্যস্থতা চুক্তি হয়। তবে বাড়িতে ফেরার পর স্বামী ওই চুক্তির শর্ত মানেননি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
সাবিনার অভিযোগ, একপর্যায়ে তাঁকে স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করানোর চেষ্টা করেন জাবেদুল। এতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে মারধর করা হয় এবং নির্যাতনের ঘটনার প্রমাণ থাকা তাঁর মোবাইল ফোন ভেঙে দেওয়া হয়। গত ২৩ সেপ্টেম্বর তাঁর কোল থেকে চার বছরের শিশুসন্তান আফান আয়ানকে নিয়ে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে সন্তানকে ফিরে পেতে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।
লিখিত আবেদনে সাবিনা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা এবং তাঁর শিশুসন্তানকে উদ্ধারে জরুরি প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তবে স্ত্রীর আনা এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য মোহাম্মদ জাবেদুল ইসলাম শাওনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে রাঙামাটি পুলিশ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে এবং অভিযোগের তদন্ত চলমান রয়েছে।