বাছাইকৃত কর্মীদের অংশগ্রহণে সিলেটের অন্যতম দর্শনীয় স্থান জাফলং জিরো পয়েন্ট-এ দিনব্যাপী শিক্ষা সফরের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির-এর কমলগঞ্জ উপজেলা শাখা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা এই এলাকায় আয়োজিত সফরটি অংশগ্রহণকারী কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করে।
সফরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের মৌলভীবাজার জেলা সভাপতি মোঃ ফরিদ উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা দপ্তর সম্পাদক মোঃ তোফাজ্জল হোসেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা সাহিত্য সম্পাদক মোঃ তারেক রহমান এবং কমলগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি মোঃ সাদিকুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। পরে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বক্তারা শিক্ষা সফরের তাৎপর্য তুলে ধরেন। তারা বলেন, পাঠ্যবইয়ের গণ্ডির বাইরে বাস্তব জ্ঞান অর্জনের জন্য এ ধরনের শিক্ষা সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি, চিন্তাশক্তির বিকাশ এবং পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জনাব ফরিদ উদ্দিন বলেন, “একজন কর্মীকে আদর্শবান ও দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে নিয়মিত শিক্ষা, আত্মশুদ্ধি এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার প্রয়োজন। শিক্ষা সফর সেই বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।” তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজনের বিকল্প নেই।
বিশেষ অতিথি জনাব তোফাজ্জল হোসেন তার বক্তব্যে সংগঠনের কর্মীদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “একজন আদর্শ কর্মীর জন্য শুধু জ্ঞানই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন চরিত্র ও মূল্যবোধের সমন্বয়।”
এ সময় জেলা সাহিত্য সম্পাদক জনাব তারেক রহমান বলেন, শিক্ষা সফর শিক্ষার্থীদের মানসিক প্রশান্তি প্রদান করার পাশাপাশি তাদের সৃজনশীলতাকে বিকশিত করে। কমলগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি সাদিকুল ইসলাম তার বক্তব্যে উপস্থিত কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে এমন আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সফরের অংশ হিসেবে অংশগ্রহণকারীরা জাফলংয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করেন, নদীর পাথরভরা তীর, পাহাড়ঘেরা পরিবেশ এবং সীমান্তবর্তী এলাকার বৈচিত্র্যময় দৃশ্যাবলি প্রত্যক্ষ করেন। পাশাপাশি দলীয় আলোচনা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং বিভিন্ন শিক্ষামূলক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
দিনব্যাপী এ শিক্ষা সফর শেষে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, এ ধরনের আয়োজন তাদের চিন্তাধারা ও দৃষ্টিভঙ্গিকে সমৃদ্ধ করেছে এবং ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
সার্বিকভাবে, শিক্ষা সফরটি অংশগ্রহণকারী কর্মীদের জন্য জ্ঞানার্জন, নেতৃত্ব বিকাশ এবং পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারের এক অনন্য সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।