রংপুর

বাক্‌প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের অপরাধে ঠাকুরগাঁওয়ে একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ঠাকুরগাঁওয়ে প্রায় ১১ বছর আগে এক বাক্‌প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি আব্দুল মমিনকে (৪১) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

 

মঙ্গলবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ আদালতের শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করেন। ২০১৫ সালে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে সংঘটিত এক বাক্‌প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের মামলায় প্রধান আসামি আব্দুল মমিনকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেন বিচারক আলী মনসুর। রায়ে আসামিকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আব্দুল মমিন রাণীশংকৈল উপজেলার ভাংবাড়ী এলাকার মৃত জালাল বৈরাগী ওরফে প্রামাণিকের ছেলে।

 

আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, অর্থদণ্ডের পুরো অর্থ ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করতে হবে। প্রয়োজনে দণ্ডিতের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায়ের জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর রাতে রাণীশংকৈল উপজেলার ভাংবাড়ী এলাকায় নিজ বাড়িতে একা থাকা ১৪ বছর বয়সী বাক্‌প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের সময় তার মা ঘটনাস্থলে এসে অভিযুক্তকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। পরে অভিযুক্ত পালিয়ে যায় এবং এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

 

তবে একই মামলার অপর আসামি এরশাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। এ রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।

 

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এনতাজুল ইসলাম জানান, “আজকের এ রায় সমাজে ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনবে এবং অপরাধীদের এ ধরনের অপরাধ সংঘটনে নিরুৎসাহিত করবে। আমরা রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট, কারণ ভুক্তভোগীর মা দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে ন্যায়বিচার পেয়েছেন।”



সম্পর্কিত খবর