আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল–কমলগঞ্জ) আসনে নির্বাচনী আমেজ ক্রমেই জোরালো হয়ে উঠছে। চা-বাগানবেষ্টিত এই জনপদে অন্যান্য এলাকার মতোই রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোর তৎপরতা বাড়ছে। বিশেষ করে ইসলামী দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত জোটকে ঘিরে ভোটারদের আগ্রহ ও আলোচনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে ইসলামী জোটের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নপ্রত্যাশী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুর রবকে এগিয়ে থাকা প্রার্থী হিসেবে দেখছেন স্থানীয় রাজনৈতিক মহল ও সচেতন ভোটাররা। কারানির্যাতিত এই নেতা দীর্ঘদিন ধরেই কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গলের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শুরু করে শহরাঞ্চল পর্যন্ত নিয়মিত গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিয়মিত উঠান বৈঠক, পথসভা, পেশাজীবী ও বিশিষ্টজনদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা শুনছেন। মাঠপর্যায়ে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতির কারণে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে তাঁর প্রতি আস্থা ও সমর্থন দিন দিন বাড়ছে বলে দাবি করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
অন্যদিকে, মৌলভীবাজার-৪ আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের একজন পরিচিত নেতাকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে সৃষ্টি হয়েছে আলোচনা ও বিতর্ক। জানা গেছে, তিনি গত ১২ মাসের মধ্যে প্রায় পুরো সময়ই যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থান করেছেন। সাধারণত দুই-এক বছর পরপর মাত্র ১৫–২০ দিনের জন্য দেশে এসে আবার বিদেশে ফিরে যাওয়াই তাঁর পরিচিত চিত্র।
প্রায় সাত-আট মাস আগে তাঁর ব্যক্তিগত ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, মৌলভীবাজার-৪ আসনে তাঁকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম থেকে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। তবে ওই ঘোষণার পর দীর্ঘ সময় ধরে মাঠপর্যায়ে তাঁর কোনো রাজনৈতিক তৎপরতা বা সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ চোখে পড়েনি।
সম্প্রতি তিনি লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন। এর মধ্যেই নির্বাচন কমিশন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। তফসিল ঘোষণার দিন সন্ধ্যায় তিনি আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়ে দাবি করেন— তাঁকে ৮ দলীয় জোট থেকে মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। বিষয়টি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে।
এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহল ও ভোটারদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। কারণ, তিনি পরিচিত জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতা হলেও ৮ দলীয় জোটের সঙ্গে জমিয়তের কোনো আনুষ্ঠানিক জোট বা সমঝোতার তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে প্রশ্ন উঠেছে— তিনি কীভাবে ৮ দলীয় জোটের প্রার্থী হলেন?
এছাড়া, তিনি ৮ দলীয় জোটের কোন দলের প্রার্থী কিংবা কোন প্রতীকে নির্বাচন করবেন—সে বিষয়েও কোনো স্পষ্টতা দেননি। সংশ্লিষ্টদের মতে, জোটের প্রার্থী হলে দল ও প্রতীক পরিষ্কারভাবে ঘোষণা থাকার কথা। কিন্তু এই অস্পষ্টতা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে।
সচেতন ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের দ্ব্যর্থক ও অস্পষ্ট বক্তব্য ইসলামী রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে এবং ভোট বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। রাজনীতিতে মতপার্থক্য স্বাভাবিক হলেও মিথ্যা দাবি, অস্পষ্ট ঘোষণা ও জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এমন বাস্তবতায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহল ও ভোটারদের অভিমত, মৌলভীবাজার-৪ আসনে ইসলামী জোটের প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে মাঠপর্যায়ে এককভাবে এগিয়ে রয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নপ্রত্যাশী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুর রব।