রাজশাহী

রাণীনগর-আত্রাই উপজেলায় বন্যার পানিতে ডুবেছে ৮০০ বিঘা জমির ফসল, ভেসে গেছে অর্ধকোটি টাকার মাছ

গত কয়েক দিনের একটানা ভারী বর্ষণ এবং উত্তরের উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে নওগাঁর রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলায় প্রায় ৮০০ বিঘা জমির ফসল তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে শতাধিক পরিবার। এছাড়া দুই উপজেলার বিভিন্ন পুকুর ডুবে অর্ধকোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে। ভারী বর্ষণে গ্রামীণ সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাওয়ায় চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।

 

রাণীনগর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জানান, বর্ষণে এই উপজেলায় ৪০০ বিঘা আমন বীজতলা এবং ১৬০ বিঘা রোপা আউশ ধানসহ প্রায় ৬১৫ বিঘা জমির ফসল বন্যার পানিতে ডুবে গেছে।

 

আত্রাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রসেনজিৎ কুমার জানান, বন্যায় বিভিন্ন এলাকায় ৬০ বিঘা আমন বীজতলা এবং ৪০ বিঘা আউশ ধানসহ প্রায় ১৩০ বিঘা জমির ফসল আক্রান্ত হয়েছে। তবে দ্রুত পানি নেমে গেলে অনেক ফসল স্বাভাবিক হতে পারে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

 

রাণীনগর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, উপজেলায় প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক ভেঙে গেছে। আত্রাই উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান জানান, বিভিন্ন এলাকায় সড়কের প্রায় ৮ থেকে ১০টি স্থান ভেঙে গেছে। এছাড়া নদী তীরবর্তী এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় বন্যার পানিতে শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

 

আত্রাই উপজেলার শ্রীধর গুড়নই গ্রামের বাসিন্দা আব্দুস সামাদ জানান, সমসপাড়া থেকে আত্রাই যাতায়াতের সড়ক ভেঙে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

 

রাণীনগর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা পলাশ চন্দ্র দেবনাথ এবং আত্রাই উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাকসুদুর রহমান জানান, দুই উপজেলায় প্রায় ৬০টি পুকুর পানিতে ডুবে মাছ ভেসে গেছে। এতে মৎস্যচাষিদের প্রায় ৪৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে রাণীনগর উপজেলায় ১০টি এবং আত্রাই উপজেলায় ৫০টি পুকুর রয়েছে।

 

রাণীনগর উপজেলার কুজাইল গ্রামের মাছ চাষি সামিউল জানান, ভারী বর্ষণে ২টি পুকুরের প্রায় ৫ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে। আত্রাই উপজেলার পাইকড়া গ্রামের মাছ চাষি অমল প্রামাণিক জানান, তিনটি পুকুর ডুবে ৬ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে।

 

নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আবু জোবায়ের জানান, সোমবার দুপুর পর্যন্ত আত্রাই নদীর আত্রাই রেলওয়ে ব্রিজ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৮৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টিপাত কমে এলে ধীরে ধীরে নদীর পানি নেমে যাবে।

 

রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান এবং আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, বিভিন্ন সড়কের ভাঙন মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে এবং পানিবন্দি পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।



সম্পর্কিত খবর