নওগাঁর রানীনগরে পারিবারিক কলহের জের ধরে মো. উজ্জ্বল মণ্ডল (৪৫) নামে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ তার চাচাতো ভাই মাসুম মণ্ডলের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি—মাসুম মণ্ডল ধারালো হাসুয়া দিয়ে উজ্জ্বলকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। শনিবার রাত ৮টার দিকে উপজেলা সদরের পূর্ব বালুভরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার উজ্জ্বল গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। উজ্জ্বল উপজেলা সদরের পূর্ব বালুভরা গ্রামের মৃত মালেক মণ্ডলের ছেলে। আর অভিযুক্ত মাসুম মণ্ডল (৩৫) একই গ্রামের মৃত মনছের মণ্ডলের ছেলে।
এ ঘটনায় রাতেই উজ্জ্বলের মা বাদী হয়ে মাসুম মণ্ডলকে প্রধান আসামি করে দুইজনের নাম উল্লেখ করে রানীনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
ভুক্তভোগীর পরিবার ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উজ্জ্বল মণ্ডল ও মাসুম মণ্ডল পরস্পর চাচাতো ভাই। দীর্ঘদিন ধরে তাদের দুজনের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলে আসছে। শনিবার রাতে উজ্জ্বল পেট্রোল পাম্পে চাকরির ডিউটি শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে রাত ৮টার দিকে বাড়ির পাশের রাস্তায় পৌঁছালে মাসুম মণ্ডল তাঁর পথরোধ করে। এরপর উজ্জ্বলের ওপর হামলা চালিয়ে হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। পরে পরিবারের ও স্থানীয় লোকজন উজ্জ্বলকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে রানীনগর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হওয়ায় নওগাঁ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
উজ্জ্বলের মা মোছা. জুলেখার দাবি—হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করে উজ্জ্বলকে হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। উজ্জ্বলের বাম হাত, পিঠ ও গালে কোপ দেওয়া হয়েছে। তিনি দ্রুত মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত মাসুম মণ্ডলের মুঠোফোন বন্ধ এবং তিনি পলাতক থাকায় অভিযোগের বিষয়ে তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে রানীনগর থানার ওসি মো. জাকারিয়া মণ্ডল বলেন, "এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।"