খুলনা

শার্শা ও ঝিকরগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেই শিশু বিশেষজ্ঞ, ভোগান্তিতে রোগীরা

যশোরের শার্শা ও ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘ দিন ধরে শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ শূন্য থাকায় ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। শীতকালীন রোগের প্রকোপ বাড়ার এই সময়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে সাধারণ মেডিকেল অফিসার দিয়েই চলছে শিশুদের চিকিৎসা। ফলে জরুরি অবস্থায় শিশুদের জেলা হাসপাতালে পাঠাতে হওয়ায় চরম আর্থিক ও মানসিক ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় অভিভাবকরা।

 

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, যশোরের ৮টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মধ্যে শার্শা ও ঝিকরগাছায় শিশু বিশেষজ্ঞের পদ শূন্য রয়েছে। শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে জেলাজুড়ে শিশুদের নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টসহ ঠান্ডাভীতি বাড়ছে। অথচ উপজেলা পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ সেবা না পেয়ে বাধ্য হয়ে অভিভাবকরা সন্তানদের নিয়ে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভিড় করছেন।

 

ঝিকরগাছার মাটিকুমড়া গ্রাম থেকে আসা চঞ্চল ও লালিয়া দম্পতি জানান, প্রচণ্ড শীতে অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে তারা বৃহস্পতিবার উপজেলা হাসপাতালে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই জানিয়ে দ্রুত জেলা হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। শার্শা থেকে আসা রাহেলা বেগম ও রোকেয়া খাতুনও একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, "উপজেলা হাসপাতাল থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে আমাদের দূরে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে, এতে খরচ ও ভোগান্তি দুই-ই বাড়ছে।"

 

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন সাফায়াত বলেন, "উপজেলা পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ সেবা না পেয়ে অভিভাবকরা এখানে আসায় আমাদের শিশু বিভাগে রোগীর প্রচণ্ড চাপ বেড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শূন্য পদগুলো পূরণ হলে এই চাপ কমে আসত।"

 

এ বিষয়ে যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা জানান, শার্শা ও ঝিকরগাছায় পদ শূন্য থাকার বিষয়টি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, "পদ শূন্য থাকলেও শিশুদের সুবিধার্থে মেডিকেল অফিসাররা সার্বক্ষণিক সেবা দিচ্ছেন। তবে রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন মনে হলে তখন জেলা হাসপাতালে রেফার করা হয়।"



সম্পর্কিত খবর