শ্রীলঙ্কায় সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় 'ডিটওয়া'র প্রভাবে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ফলে এখন পর্যন্ত ৩৩৪ জন নিহত এবং কমপক্ষে দুই শতাধিক ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন। শ্রীলঙ্কার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, এই বন্যায় ২০ হাজারেরও বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ১ লাখ ২৩ হাজার মানুষকে সরকার পরিচালিত অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বন্ধুপ্রতিম দেশের এই মানবিক বিপর্যয়ে বাংলাদেশ সরকার মর্মাহত।
এহেন পরিস্থিতিতে শ্রীলঙ্কা সরকার দেশে জরুরি অবস্থা জারির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলের কাছে সহায়তা চেয়ে আবেদন জানিয়েছে। শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কলম্বোস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনকে জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য, ঔষধ সামগ্রী ও অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী প্রেরণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানায়।
মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি সি-১৩০জে পরিবহন বিমান আজ বুধবার (০৩-১২-২০২৫) ক্ষতিগ্রস্তদের মানবিক সহায়তা প্রদানের উদ্দেশ্যে কলম্বো, শ্রীলঙ্কার উদ্দেশে যাত্রা করে।
বিমানটিতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ১৫ জন ক্রুর একটি দল, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের একজন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী নিয়ে যান। বিমান বাহিনীর এয়ার কমডোর মোহাম্মদ সহিদুল ইসলাম মিশন কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন।
আজ পাঠানো মোট প্রায় ১০ টন ত্রাণ সহায়তার মধ্যে রয়েছে: তাঁবু, শুকনো খাবার, মশারী, টর্চলাইট, গাম বুট, ভেস্ট, হ্যান্ড গ্লোভস, রেসকিউ হেলমেট এবং বিপুল পরিমাণ ঔষধ।
বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী বিশ্বাস করে যে, বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রেরিত এই মানবিক সহায়তা শ্রীলঙ্কায় সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের দুর্ভোগ কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। মানবিক সহায়তা প্রদান শেষে সি-১৩০জে পরিবহন বিমানটি একই দিন বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করবে। আগামী দিনগুলোতে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বৈশ্বিক যে কোনো প্রয়োজনে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী আত্মনিয়োগের জন্য সদা অঙ্গীকারবদ্ধ।