ঢাকা

৩৬১ মণ্ডপে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি, দিন-রাত প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত শিল্পীরা

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে নরসিংদীতে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে চলছে সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার কাজ। অন্যদিকে দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে দিন-রাত প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পীরা।

নরসিংদী জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ জানিয়েছে, এবার জেলার ছয়টি উপজেলায় ৩৬১টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে মণ্ডপের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

সরেজমিনে নরসিংদী শহরের কয়েকটি পূজামণ্ডপ ও প্রতিমা তৈরির কারখানা ঘুরে দেখা যায়, বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি প্রতিমার কাঠামোর ওপর খড় দিয়ে দেওয়া হয়েছে দেব-দেবীর অবয়ব। এরপর কয়েক ধাপে কাদামাটির প্রলেপ দিয়ে চলছে সূক্ষ্ম কারুকাজ। কোথাও আবার শুরু হয়েছে রং-তুলির কাজ।

দুর্গা, সরস্বতী, লক্ষ্মী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমায় ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে নিখুঁত মুখাবয়ব, পোশাক ও অলংকারের নকশা। প্রতিমার চোখ-মুখের নিখুঁত সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে শিল্পীদের ব্যস্ততা এখন চরমে।

প্রতিমা শিল্পীরা জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার প্রতিমার চাহিদা ও দাম কিছুটা ভালো। তবে বাঁশ, কাঠ, খড়, মাটি, রংসহ প্রয়োজনীয় উপকরণের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে কারিগর ও শ্রমিকদের মজুরিও। ফলে প্রতিমার দাম বাড়লেও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় প্রত্যাশিত লাভ হচ্ছে না।

নরসিংদী শহরের সেবা সংঘ এলাকার প্রতিমা শিল্পী সবুজ দাস বলেন, অন্যান্য বছরের মতো এবারও প্রতিমার চাহিদা রয়েছে। তবে উপকরণ ও কারিগরদের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় প্রতিমা তৈরিতে খরচও বেড়েছে। ফলে প্রতিমার দাম কিছুটা বেশি পড়ছে।

তিনি জানান, একটি প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয় কয়েক মাস আগে। প্রথমে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে কাঠামো তৈরি করা হয়। এরপর খড় দিয়ে অবয়ব তৈরি করে কয়েক ধাপে মাটির প্রলেপ দেওয়া হয়। মাটি শুকিয়ে গেলে শুরু হয় রং ও সাজসজ্জার কাজ। সবশেষে প্রতিমা পাঠানো হয় পূজামণ্ডপে।

শিল্পীরা জানান, প্রতিমার আকার, নকশা ও কারুকাজের ওপর নির্ভর করে একটি প্রতিমা তৈরিতে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লাগে। বড় ও বিশেষ নকশার প্রতিমায় সময় ও শ্রম বেশি প্রয়োজন হওয়ায় সেগুলোর দামও তুলনামূলক বেশি।

এদিকে দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্‌যাপনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ সংযোগ, অগ্নিনিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

নরসিংদী জেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাখন দাস বলেন, সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পূজামণ্ডপগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং কয়েক স্তরের নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলার বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও নির্বিঘ্নে পূজা উদ্‌যাপনের বিষয়ে তারা আশাবাদী। জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়া গেছে।

আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। পাঁচ দিনব্যাপী এ উৎসব শেষ হবে ২২ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে।

ইতিমধ্যে জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে শুরু হয়েছে সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার প্রস্তুতি। আর প্রতিমা শিল্পীদের নিপুণ হাতের শেষ আঁচড়ে ধীরে ধীরে পূর্ণতা পাচ্ছে দেবী দুর্গাসহ অন্যান্য প্রতিমা। উৎসবের দিন যত ঘنيয়ে আসছে, ততই বাড়ছে তাদের ব্যস্ততা।



সম্পর্কিত খবর