চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়: চবির নতুন উপাচার্য হিসেবে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) যোগ দিয়েছেন জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল ফোরকান। রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩-এর আর্টিকেল ১২ ধারা অনুযায়ী গতকাল সোমবার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান-কে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। আল্-ফোরকান বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। তিনি চবির উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে বিএসসি (সম্মান) ও এমএস ডিগ্রি অর্জন করেন।
পরে তিনি ১৯৯৩ সালে একই বিভাগের প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন এবং ২০০৬ সালে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন।
নবনিযুক্ত উপাচার্য আল্-ফোরকান বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে এমন একটি প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়ার স্বপ্ন দেখি, যাতে করে তা জাতীয়ভাবে উচ্চশিক্ষার ধারণার পটপরিবর্তনকারী ও আন্তর্জাতিকভাবে মর্যাদাসম্পন্ন হবে এবং যেখানে শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবন সমন্বিতভাবে অগ্রসর হবে। আমার একাডেমিক মিশন হলো গবেষণাভিত্তিক ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক একটি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা, যেখানে বুদ্ধিবৃত্তিক কৌতূহল, নৈতিক মূল্যবোধ ও সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তির বিকাশ ঘটবে এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশের বাস্তব সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখা যাবে।
তিনি বলেন, আমার একাডেমিক ভিশন হলো, একাডেমিক স্বায়ত্তশাসন, মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন এবং প্রমাণনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণকে গুরুত্ব দেওয়া, যেখানে শিক্ষকরা উদ্ভাবনে উৎসাহিত হবেন এবং শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যৎ গবেষক, পেশাজীবী ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।
আমি বিশ্বাস করি, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কেবল জ্ঞান সংরক্ষণের প্রতিষ্ঠান নয়; বরং এটি হতে হবে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি।
আমার প্রশাসনিক ভিশন স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও অংশগ্রহণমূলক শাসনব্যবস্থার ওপর প্রতিষ্ঠিত। এর মূল লক্ষ্য হলো- এমন একটি দ্রুত সাড়া প্রদানকারী ও ডিজিটালভাবে সক্ষম প্রশাসন গড়ে তোলা, যা ব্যুরোক্র্যাটিক জটিলতা কমাবে এবং একই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ও বিধিবিধান অক্ষুণ্ন রাখবে। আমার প্রশাসনিক মিশন হলো, বিশ্ববিদ্যালয় শাসনব্যবস্থার প্রতি জনআস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা, আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা, ন্যায্য নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রক্রিয়া বজায় রাখা এবং এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ক্যাম্পাস সংস্কৃতি গড়ে তোলা, যেখানে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা সম্মানিত ও সুরক্ষিত বোধ করবেন।
আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, প্রশাসনিক উৎকর্ষ নিয়ন্ত্রণমূলক নয়; বরং এটি সেবামুখী হওয়া উচিত, যা দক্ষ শাসনের মাধ্যমে একাডেমিক উৎকর্ষকে সহায়তা করে।
পরে উপাচার্য অন্যদের নিয়ে ভাষাশহীদদের প্রতি শহীদ মিনারে, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি স্বাধীনতা স্মৃতিস্তম্ভে এবং শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে বুদ্ধিজীবী চত্বরে পূষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. কামাল উদ্দিন, জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোশারফ হোসেন, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত), প্রভোস্ট, প্রক্টর, ছাত্র-ছাত্রী পরামর্শ ও নির্দেশনা পরিচালক, চাকসু কেন্দ্রের পরিচালক, বিভিন্ন বিভাগ-ইনস্টিটিউটের সভাপতি/পরিচালক, সহকারী প্রক্টর, বিভিন্ন দপ্তরের প্রশাসক, শিক্ষক, অফিস প্রধান এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।