ভোর থেকে ঘন মেঘে ঢাকা ছিল রাজধানীর আকাশ। রবিবার (৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে হঠাৎ শুরু হয় ঝুম বৃষ্টি। অল্প সময়ের মধ্যেই ভিজে যায় সড়ক, ফুটপাত ও ব্যস্ত নগরজীবন। কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ নগরবাসীর দিনের শুরু হয় ভোগান্তি। সপ্তাহের দ্বিতীয় কর্মদিবসের সকালে রামপুরা, বাড্ডা, নতুনবাজারসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির খবর পাওয়া যায়। তবে ঢাকার সব এলাকায় একযোগে বৃষ্টি হয়নি।
কোথাও মুষলধারে বৃষ্টি হলেও কোথাও ছিল শুষ্ক আবহাওয়া। আকস্মিক এ বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন ছাতা ছাড়া বের হওয়া অফিসগামী, চাকরিজীবী ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থল বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে অনেকে ভিজেই পথ চলেন। আবার কেউ কেউ বৃষ্টি থামার অপেক্ষায় বাসস্ট্যান্ড, ফুটওভার ব্রিজ কিংবা বিভিন্ন দোকানের সামনে আশ্রয় নেন।
গণপরিবহনেও দেখা যায় একই চিত্র। জানালার পাশে বসা অনেক যাত্রী বৃষ্টির পানিতে ভিজে যান। বিশেষ করে যেসব বাসের জানালার কাচ ভাঙা ছিল বা ঠিকমতো বন্ধ করা যাচ্ছিল না, সেসব বাসে বৃষ্টির পানি ঢুকে যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দেয়।
ছাতা সঙ্গে থাকলেও পুরোপুরি স্বস্তি পাননি অনেকেই। মাথা ও শরীরের ওপরের অংশ শুকনো থাকলেও হাঁটু থেকে নিচের অংশ, জুতা ও প্যান্ট ভিজে যায় বৃষ্টির পানিতে। মালিবাগ রেলগেটগামী ভিক্টর বাসের যাত্রী শরিফুল বলেন, ‘ছাতা সঙ্গে ছিল। তারপরও ভেজা এড়াতে পারিনি। শরীরের নিচের অংশ পুরো ভিজে গেছে। তবে কিছুটা ভোগান্তি হলেও এই বৃষ্টি গরমের মধ্যে স্বস্তি এনে দিয়েছে।’
বৃষ্টির সময় মধ্যবাড্ডায় রাস্তার পাশের লুৎফুন টাওয়ারের নিচে আশ্রয় নেন অনেক পথচারী। কেউ বৃষ্টি থামার অপেক্ষায়, আবার কেউ গণপরিবহনের আশায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাদেরই একজন রাশেদুল ইসলাম। পল্টনে যাওয়ার জন্য বাসের অপেক্ষায় ছিলেন তিনি।
ভিক্টর পরিবহনের একটি বাস আসতেই বৃষ্টির মধ্যে দ্রুত উঠে পড়েন গাড়িতে। বাসে ফাঁকা আসন পেয়ে জানালার পাশে বসেন। কিন্তু জানালার কাচ ভাঙা থাকায় বাইরে থেকে ঢুকে পড়া বৃষ্টির পানিতে কিছুক্ষণের মধ্যেই তার এক পাশ ভিজে যায়। অফিসে পৌঁছানোর তাড়া থাকায় সেই অস্বস্তি নিয়েই যান তিনি।
রাশেদুল বলেন, ‘অফিসে দেরি হবে বলে বৃষ্টির মধ্যেই বাসে উঠেছি। কিন্তু জানালার কাচ ভাঙা থাকায় বসেও স্বস্তি পাইনি। এক পাশ পুরো ভিজে গেছে। বৃষ্টি হলে প্রায়ই এমন দুর্ভোগ পোহাতে হয়।’ একই বাসের আরেক যাত্রী শরিফুল হাসান। তিনি ভিজে বাসে ওঠেন। শরিফুল বলেন, ছাতা এনেও ভিজে যাওয়া থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারলাম না। নিচের অংশ পুরো ভিজে গেছে। তারপরেও কিছুটা ভোগান্তি হলেও গরমের মধ্যে এমন বৃষ্টিতে স্বস্তি পেয়েছি।