যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের দেহরক্ষী সিরাজুল ইসলামের (৩০) বিরুদ্ধে। ৬ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে দায়ের করা মামলায় হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে পঞ্চগড় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে গণমাধ্যমকর্মীদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী হাবীবুল ইসলাম হাবীব। এর আগে মামলার শুনানি শেষে গত বুধবার (১৩ মে) তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন পঞ্চগড় আমলি আদালত-২-এর বিচারক মো. মোস্তাক ইসলাম।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৮ জুন পঞ্চগড় পৌরসভার তেলিপাড়া এলাকার মোবারক হোসেনের মেয়ে মাহাবুবা সুলতানা মায়ার সাথে ঠাকুরগাঁও জেলার রুহিয়া কনি কশালগাঁও এলাকার ইন্তাজুল ইসলামের ছেলে পুলিশ সদস্য সিরাজুল ইসলামের বিয়ে হয়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, বিয়ের পর থেকে সিরাজুল পরিবারের সদস্যদের পরামর্শে যৌতুকের জন্য স্ত্রী মায়াকে অমানবিক নির্যাতন শুরু করেন। পরে এ নিয়ে একাধিকবার সালিস বৈঠক হয়। এতে কোনো সুরাহা না হওয়ায় পঞ্চগড় আমলি আদালত-১-এ একটি যৌতুক মামলা এবং পারিবারিক আদালতে দেনমোহর ও খোরপোশের মামলা দায়ের করেন বাদী মাহবুবা সুলতানা মায়া। পরে আপস-মীমাংসা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি মামলা প্রত্যাহার করিয়ে নেন সিরাজুল। এরপর একটি ইজিবাইকে উঠে জেলা শহরের মিলগেট বাজার এলাকায় একটি দোকানে নাশতা খাওয়ার সময় দপ্তরে আপসের কাগজ জমা দেওয়ার কথা বলে একটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্ত্রীর স্বাক্ষর নেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে অভিযুক্ত সিরাজুল স্বাক্ষর নেওয়া কাগজ এফিডেভিট করে স্বেচ্ছায় তালাক দেওয়ার ভয় দেখিয়ে স্ত্রীকে তার বাবার কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা যৌতুক এনে দিতে দাবি করেন। একপর্যায়ে পঞ্চগড়ের মিলগেট বাজারে বাদীকে রেখে চলে যান আসামিরা।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, যৌতুকের টাকা না পেলে অভিযুক্ত সিরাজুল অন্যত্র বিয়ে করবেন বলে হুমকি দেন। পরবর্তীতে বিষয়টি আরও জটিল হলে মাহবুবা সুলতানা মায়ার স্বাক্ষর জাল করে একটি স্ট্যাম্প ফেরত দেওয়া হয়। এরপর চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি আবারও একটি যৌতুক মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী। এই মামলায় পরবর্তীতে জেলহাজতে যান আসামি সিরাজুল ইসলাম। পরে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন জামিনে মুক্তি পান। এদিকে গত ১৩ মে (বুধবার) মামলায় অভিযুক্ত আসামি সিরাজুল আদালতে স্থায়ী জামিনের আবেদন করলে বাদীপক্ষ তা বাতিলের আবেদন জানায়। আদালত পূর্বের মামলার নথি পর্যালোচনা ও আইনজীবীদের শুনানি শেষে সিরাজুল ইসলামকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার বাদীর বাবা মোবারক হোসেন এ বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, সিরাজুল ও তার বাবা আমার মেয়েকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করতেন। এ নিয়ে আমরা দুটি মামলা করলে তারা নানা তালবাহানা ও চক্রান্ত করে তা প্রত্যাহার করিয়ে নেয়। এরপর আবারও পূর্বের রূপ ধারণ করে। আমরা আবারও মামলা করেছি। আদালতের কাছে আমরা ন্যায্য বিচার চাই, যাতে আর কোনো বাবার মেয়েকে এভাবে নির্যাতিত হতে না হয়।
এদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবী হাবীবুল ইসলাম হাবীব বলেন, "আসামি বাদীকে দেনমোহর ও খোরপোশ বাবদ ২৪ লাখ ১০১ টাকা দেবেন মর্মে পূর্বের মামলা প্রত্যাহার করিয়ে নেন। পরে চার লাখ টাকার দেনমোহরের কাগজ আদালতে দাখিল করেন। তবে আদালত মামলার কাগজ ও নথি দেখে অবগত হন যে, বাদীকে আপসের কথা বলে সুকৌশলে মামলা প্রত্যাহার করানো হয়েছিল। আদালত বিষয়টি বুঝতে পেরে আসামির জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।"