বাংলাদেশ ও মিশরের মধ্যে শিল্প, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে শিল্প ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করা সম্ভব।
সোমবার (১০ আগস্ট) বাংলাদেশে নিযুক্ত মিশরের রাষ্ট্রদূত ওমর মহি এলদিন আহমেদ ফাহমি শিল্প মন্ত্রণালয়ে শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে শিল্পমন্ত্রী এসব কথা বলেন। শিল্প মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সাক্ষাৎকালে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে শিল্প খাতে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, বাণিজ্য বৃদ্ধি, প্রযুক্তি ও দক্ষতা বিনিময় এবং যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ও মিশরের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। এই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে শিল্প ও বিনিয়োগ খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন।
’ তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের শিল্প খাতে বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। মিশরের ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে উভয় দেশই লাভবান হবে।
শিল্পমন্ত্রী আরও বলেন, ‘চামড়া, হালকা প্রকৌশল, ওষুধ, পাট ও পাটজাত পণ্যসহ বিভিন্ন শিল্প খাতে বাংলাদেশ ও মিশরের যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। পারস্পরিক অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বিনিময়ের মাধ্যমে এসব খাতে আরও উন্নয়ন সম্ভব।’
তিনি মিশরের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার শিল্পবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। বাংলাদেশে বিনিয়োগের মাধ্যমে মিশরের উদ্যোক্তারা যেমন নতুন বাজারের সুযোগ পাবেন, তেমনি বাংলাদেশের শিল্প ও কর্মসংস্থানও সম্প্রসারিত হবে।
মিশরের রাষ্ট্রদূত দুই দেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, মিশর বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে আগ্রহী। তিনি শিল্প ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রাষ্ট্রদূত বলেন, দুই দেশের মধ্যে ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তাদের যোগাযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও সম্প্রসারিত করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন তিনি।
সাক্ষাতে উভয় পক্ষই বাংলাদেশ ও মিশরের মধ্যে শিল্প, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।