জাতীয়

বাজারে সয়াবিন তেলের সংকট অব্যাহত, আলু-পেঁয়াজ-সবজিতে স্বস্তি

দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে সয়াবিন তেলের বাজারে চলা অস্থিরতা এখনো কাটেনি। সরকার সম্প্রতি বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৮ টাকা বাড়ালেও বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। অধিকাংশ পাড়া-মহল্লার দোকানে এখনো সয়াবিন তেলের সংকট রয়েছে।

রাজধানীর রামপুরা বাজারে সরেজমিনে দেখা যায়, হাতেগোনা দুই-একটি দোকানে বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে। আলম স্টোরের মালিক রেজাউল আলম বলেন, “কোম্পানি তেল দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও সরবরাহ করেনি। শনিবার তেল পাব বলে আশা করছি। তবে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে একই পরিস্থিতি চলছে। তেলের দাম বেড়েছে, কিন্তু পণ্য এখনও পৌঁছায়নি।”

পরিবেশকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অধিকাংশ কোম্পানি এখনো নতুন দামের বোতলজাত সয়াবিন তেল বাজারে ছাড়েনি। ফলে খুচরা পর্যায়েও তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। বাজারে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭৫ টাকা। তবে সংকটের কারণে এটি কোথাও কোথাও ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সয়াবিন তেলের সংকটের মধ্যে কিছু খাদ্যপণ্যে স্বস্তি ফিরেছে। পেঁয়াজ, আলু ও সবজিসহ বেশ কিছু নিত্যপণ্যের দাম নিম্নমুখী। মসুর ডালের দাম কেজিপ্রতি ৫ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ১১৫ থেকে ১৩০ টাকায়।

দীর্ঘদিন অস্থিতিশীল থাকা পেঁয়াজের বাজারেও সুখবর। দেশি ভালো মানের পেঁয়াজের দাম কমে এখন ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। দেশি হাইব্রিড পেঁয়াজ ৮০ থেকে ৯০ টাকায় এবং আমদানি করা পেঁয়াজ ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নতুন পেঁয়াজ উঠতে শুরু করায় আগের মজুত দ্রুত বাজারে ছাড়া হচ্ছে। ফলে দাম আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভারত থেকে আমদানি করা নতুন আলুর দাম ৭০ টাকায় নেমেছে, যা আগে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। এর প্রভাবে পুরোনো আলুর দামও কেজিপ্রতি ১০ টাকা কমে ৬০-৬৫ টাকায় নেমেছে।

শীতের সবজির সরবরাহ বাড়ায় সব ধরনের সবজির দাম কমতে শুরু করেছে। শিমের কেজি এখন ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সপ্তাহ দুয়েক আগে ছিল ৮০ থেকে ১০০ টাকা। মুলার দাম ২০ টাকায় নেমেছে, শালগম ৪০ থেকে ৫০ টাকায় এবং বেগুন ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে প্রতিটি ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৩০ থেকে ৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

আকাশছোঁয়া দামের কাঁচামরিচ এখন ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা গত দুই সপ্তাহ ধরে স্থিতিশীল রয়েছে।

মুরগি ও ডিমের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৭৫ থেকে ১৮৫ টাকায় এবং সোনালি মুরগি ২৭০ থেকে ২৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফার্মের মুরগির ডিমের দাম প্রতি ডজন ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা।

সয়াবিন তেলের বাজারে সংকট চললেও অন্যান্য বেশ কিছু নিত্যপণ্যের দামে স্বস্তি পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষত শীতের সবজির সরবরাহ বাড়ায় সাধারণ ক্রেতারা খানিকটা হলেও স্বস্তির মুখ দেখছেন।

 

বায়ান্ন/এসএ

 

 



সম্পর্কিত খবর