বরিশাল

বামনায় বিধবা নারী অন্তঃসত্ত্বা থানায় মামলা, আসামী ছগির ও কালাম পলাতক

বরগুনার বামনা থানায় এক বিধবা নারীকে একাধিকবার ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করার অভিযোগে দুই জনকে আসামী করে থানায় মামলা।

গত ২৮রোজ রবিবার রাতে ভুক্তভোগী নারী নিজে বাদী হয়ে বামনা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০২৫) এর ৯(১) ধারায় এই মামলাটি রুজু করে যার মামলা নম্বর: ০৯/২৮/০৬/২৬ ইং।

মামলার এজাহার ও থানা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৪নং ডৌয়াতলা ইউনিয়নের গুদিঘাটা গ্রামের মৃত আলী সিকদারের ছেলে মোঃ ছগির সিকদার (৪৫) এবং একই গ্রামের মোঃ মোনাব্বার হাওলাদারের ছেলে মোঃ কালাম হাওলাদার (৩৫) এই জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িত।

ভুক্তভোগী নারী মামলায় অভিযোগ করেন, গত ১০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ দুপুর অনুমান ১২টায় ১নং আসামী ছগির সিকদারের আধাপাকা টিনশেড বসত বিল্ডিংয়ের ভেতরের কক্ষে তাকে প্রথম বার জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। বিষয়টি ২নং আসামী কোন ভাবে জানতে পেরে গত ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাত অনুমান ৯:৩০ টায় বাদীর নানার বসত বাড়ির পিছনের সুপারি বাগানের মধ্যে নিয়ে তাকে ২নং আসামী জোর করে ধর্ষণ করে। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে ও তারিখে আসামিরা তাকে বিবাহের প্রলোভন, ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। তবে ঐ নারী বর্তমানে ২২ সপ্তাহের গর্ভবতী। 

দীর্ঘদিন লোকলজ্জা ও আসামীদের হুমকির মুখে নীরব থাকার পর অবশেষে ভুক্তভোগী নারী থানায় এসে মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ছগির সিকদার ও কালাম হাওলাদার এলাকা ছেড়ে পলাতক রয়েছে।

বামনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ফারুক হোসেন খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "ভুক্তভোগীর মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে রুজু করা হয়েছে। অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয়েছে বামনা থানার সাব-ইন্সপেক্টর (নিঃ) আমিনুল ইসলামকে। তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান,  ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে এবং ভুক্তভোগী নারীর দ্রুত শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

 



সম্পর্কিত খবর