ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যশোরের বিভিন্ন সীমান্ত রুট দিয়ে ভারত থেকে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরকের চালান ঢুকছে। গত দুই মাসে বিজিবি ও যৌথবাহিনীর অভিযানে একাধিক বড় চালান জব্দ হলেও থামছে না অস্ত্রের অনুপ্রবেশ, যা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
যশোরের শার্শা, চৌগাছা ও ঝিকরগাছার ২৪০ কিলোমিটার বিস্তৃত সীমান্ত এলাকার ১১টি রুট বর্তমানে অস্ত্র চোরাচালানের প্রধান করিডোর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, পার্বত্য চট্টগ্রামের পর বর্তমানে যশোর সীমান্ত দিয়েই দেশে সবচেয়ে বেশি অবৈধ ক্ষুদ্র অস্ত্র প্রবেশ করছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে নির্মিত ‘কাট্টা রাইফেল’, ‘বেলঘরিয়া পিস্তল’ এবং আধুনিক ৯ এমএম পিস্তল ছোট আকারের হওয়ায় সহজে লুকিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে।
পরিসংখ্যান বলছে, সরকার পরিবর্তনের গত এক বছরে যশোর সীমান্তে ৬২টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যার অধিকাংশতেই ব্যবহার করা হয়েছে বিদেশি পিস্তল। সর্বশেষ গত সোমবার রাতেও শার্শা ও বেনাপোল সীমান্ত থেকে বিদেশি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এর আগে ৩০ জানুয়ারি বাঘারপাড়ায় জনৈক ব্যক্তির বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১০টি গ্রেনেড ও ৩টি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করে যৌথবাহিনী।
বেনাপোলের সাধারণ ভোটার ফজলুর রহমান ও আজিজুল হক জানান, নির্বাচনের আগে অস্ত্রের মহড়া বাড়লে সাধারণ মানুষের পক্ষে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে। মানবাধিকার সংস্থা রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক বলেন, "নির্বাচনী উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখতে দ্রুত অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার নিশ্চিত করতে হবে।"
যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি সর্বোচ্চ পর্যায়ে বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, “সহিংসতা প্রতিরোধে আমরা অন্য বাহিনীর সাথে সমন্বয় করে কাজ করছি। কোনো অস্ত্রের চালান যাতে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য সীমান্ত জুড়ে কড়া সতর্কতা জারি করা হয়েছে।”