খুলনা

শার্শা ও বেনাপোলে শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি সম্পন্ন: ৩২ মণ্ডপে বইছে আনন্দের জোয়ার

শরতের আকাশজুড়ে কাশবনের দোলা আর পূবালী বাতাসে ঢাকের বাদ্যের মৃদু গুঞ্জন—সব মিলিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে।

যশোরের শার্শা ও বেনাপোলে এবার ৩২টি পূজামণ্ডপে উদযাপিত হতে যাচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব। ইতোমধ্যে প্রতিটি মন্দিরে প্রতিমা শিল্পীদের নিপুণ হাতের ছোঁয়া ও সাজসজ্জার কাজ প্রায় শেষের পথে। আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে এই মহামিলনোৎসব।

উৎসবের সার্বিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গে শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ বলেন, “প্রতি বছরের মতো এবারও উপজেলার প্রতিটি মণ্ডপে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতায় নিয়োজিত রয়েছে।”

উৎসবের নিরাপত্তা জোরদারে শার্শা ও বেনাপোল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, “শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনের লক্ষ্যে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন থাকবে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ প্রশাসন অত্যন্ত তৎপর রয়েছে।”

উৎসবকে সার্বিকভাবে সফল করতে দিনরাত কাজ করে চলেছেন আয়োজকেরা। শার্শা উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি বৈদ্যনাথ দাস ও সাধারণ সম্পাদক নীলকমল সিংহ যৌথভাবে জানান, উপজেলার সবকটি মণ্ডপে শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব সম্পন্ন করতে প্রশাসন ও স্থানীয় কমিটির সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করা হচ্ছে।

এদিকে সরেজমিনে বেনাপোল পৌরসভার পাটবাড়ী দুর্গামন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, উৎসবের প্রায় সব প্রস্তুতিই সম্পন্ন। বেনাপোল পৌর পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি রবিন পাল ও সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল জানান, “এবার আমাদের পৌর এলাকার মধ্যে ৪টি প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে। ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় সামলাতে এবং উৎসবকে বর্ণিল করতে আমরা সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছি।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও বইছে আনন্দের বন্যা। শার্শা বাজারের বিশিষ্ট স্বর্ণ ব্যবসায়ী উজ্জ্বল কুমার বিশ্বাস আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “পূজার এই দিনগুলোর জন্য আমরা সারা বছর অপেক্ষায় থাকি। আশা করছি, ভক্ত ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে আরও অনেক বেশি জাঁকজমকপূর্ণ ও আনন্দঘন হবে।”

মায়ের আগমনী বার্তায় এখন মুখরিত উপজেলার প্রতিটি জনপদ। সব শঙ্কা উড়িয়ে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এই উৎসব রূপ নিক সার্বজনীন মহামিলনে—এমনটাই প্রত্যাশা শার্শা ও বেনাপোলবাসীর।

এ সময় মণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তার বিষয়েও আশ্বস্ত করেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ নুরুজ্জামান লিটন। শনিবার, ১০ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টায় বেনাপোল রহমান চেম্বারের ‘হোটেল সান রূপ ইন্টারন্যাশনাল’-এ উপজেলা পূজামণ্ডপগুলোর প্রতিনিধিদের হাতে তাঁর ব্যক্তিগত নগদ আর্থিক অনুদান তুলে দেওয়া হয়।

 


সম্পর্কিত খবর