জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, “গণভোটের ৮৪টি সংস্কারের পক্ষে সরকার ‘হ্যাঁ’ বলেছে, কিন্তু পার্লামেন্টে তারা উল্টো কথা বলছে। তারা জুলাই সনদ মানবে কিন্তু গণভোট মানবে না। সরকার নিজ স্বার্থে জুলাই সনদ ও গণভোট—এই দুটিকে আলাদা করে ফেলেছে।”
শনিবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও মানবকল্যাণ পরিষদের হলরুমে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়ের সময় এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীসহ সরকারি দল পার্লামেন্টে বলছে জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে মানবে। এর অর্থ জুলাই সনদে যে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ আছে, সেই ‘নোট অব ডিসেন্ট’সহ মানবে। কিন্তু তারা কখনো বলে না যে, গণভোটের রায় তারা অক্ষরে অক্ষরে মানবে। এর অর্থ সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বিষয়গুলো তারা ‘নোট অব ডিসেন্ট’সহ মানবে। অথচ ক্ষমতায় যেতে তারাও ‘হ্যাঁ’-তে ভোট দিয়েছে এবং বড় ফাঁকিবাজি করেছে।”
স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও গণতন্ত্র নিয়ে তিনি বলেন, “স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আমরা অংশগ্রহণ করব অবশ্যই। এই নির্বাচনটি আমরা জাতীয় নির্বাচনের আগেই চেয়েছিলাম এবং সরকার বিশেষ উদ্দেশ্যে সেটি মানেনি। এখন আমরা দাবি করছি, সরকার বড় অন্যায় করেছে যে ক্ষমতায় এসে পার্লামেন্ট শুরু হওয়ার আগেই উনারা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নিযুক্ত করে ফেলেছেন। এটি চরমভাবে গণতন্ত্র এবং সংবিধানবিরোধী একটি কাজ। কীভাবে একটি নির্বাচিত (ইলেক্টেড) সরকার এসে সিটি কর্পোরেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় মনোনীত (সিলেক্টেড) দলীয় লোক দিয়ে দিল? এতেই বোঝা যায়, সরকার গণতন্ত্রের পথে হাঁটছে না।”
জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন প্রধানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, সাবেক সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলমগীর, জেলা ইমাম সমিতির সভাপতি ফজলে রাব্বি সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, ঠাকুরগাঁও রোকন সম্মেলনে যোগদানের পর তিনি পঞ্চগড়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।