জলপাই ফলের ভরা মৌসুম চলছে এখন। মুখরোচক এই ফলটি বিক্রি হচ্ছে সিরাজগঞ্জের বাগবাটি হাটে।
মাটিতে বিছানো পলিথিনে ঢেলে স্তুপ করেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। এখান থেকেই পাইকারী ব্যবসায়ীরা জলপাই কিনে ওজন করে নিয়ে যাচ্ছে গন্তব্যে।
প্রতিদিন সকালে অটোরিকশা, ভ্যান ও পিকআপসহ বিভিন্ন যানবাহনে নিয়ে আসছে বস্তাবোঝাই জলপাই।
এমন চিত্র প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাগবাটি হাটে।
মৌসুম জুড়ে জমজমাট হাটে প্রতিদিন জলপাই বিক্রি করতে আসেন ছোট, বড় ব্যবসায়ীরা। প্রতিবছরের মতো এবারও জমে উঠেছে এই জলপাইয়ের হাট। এখানে দিনে অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ মেট্রিক টন জলপাই বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে, যার মূল্য প্রায় ৪ লাখ টাকা।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাগবাটিতে একমাত্র জলপাইয়ের হাটে প্রতিদিন প্রায় ৪ লাখ টাকার জলপাই কেনাবেচা হয়। এই জলপাইয়ের হাটে বাগবাটি ইউনিয়নের ঘোড়াচড়া, কানগাতি, হরিনা বাগবাটি, খাগা, সুবর্ণগাতি, ফুলকোচা ও বাক্ষ্রমবাগ গ্রাম থেকে জলপাই নিয়ে আসেন বিক্রেতারা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে বেচাকেনা। জেলার বিভিন্ন উপজেলার পাশাপাশি, বগুড়া,টাঙ্গাইল,পাবনা, নাটোর ও ঢাকার পাইকারসহ দূর-দূরান্ত থেকে পাইকারী ব্যবসায়ীরা এখান থেকে জলপাই কিনে নিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন জেলায়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী,আকমাল হোসেন,আবু সাঈদ মন্ডল, রাজ্জাক শেখসহ বেশ কয়েকজন বলেন,সপ্তাহে রবি ও বৃহস্পতিবার বাগবাটিতে নিয়মিত হাট বসে। মৌসুম শুরু হওয়ায় প্রতিদিনই বসে জলপাইয়ের হাট। এ বছর বৃষ্টি বেশি হওয়ায় ফলন একটু কম হয়েছে বলে জানান।
তারা আরও বলেন, গাছে মুকুল আসার পরই মালিকদের গাছ থেকে পাইকারী ব্যবসায়ীরা গাছ ক্রয় করেন। আকার ভেদে প্রতিটি গাছে ১০ থেকে ১৫ মণ পর্যন্ত জলপাই ধরে। পাইকারি দরে প্রতি মণ কেনা হয় ৭০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা। এই জলপাই বাজারে প্রতি মন ১ হাজার থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হয়। প্রতিদিন এই হাটে সাড়ে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার জলপাই বেচাকেনা হয়।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনোয়ার সাদাত জানান, আশ্বিন, কার্তিক ও অগ্রহায়ণ এই তিন মাস জলপাইয়ের মৌসুম। তিনি আরো বলেন, এ বছর শুধুমাত্র সদর উপজেলাতেই ৫০ হেক্টর জমিতে জলপাইয়ের আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১১০ মেট্রিক টন। এছাড়া জেলায় ফলটির উৎপাদন বাড়াতে কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হয়।
বায়ান্ন/এসএ