বরিশাল

প্রাণিসম্পদ হাসপাতাল: সেবার নামে হয়রানি, জাতীয় পতাকার অবমাননা

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে সেবার নামে চলছে চরম হয়রানি। সরকারি সুযোগ-সুবিধা থাকলেও সাধারণ খামারিরা সেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। বরং কার্যালয়টিতে অনিয়ম, দুর্নীতি ও জাতীয় পতাকার অবমাননার চিত্র ধরা পড়েছে।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের প্রধান ফটকের বাম পাশে একটি প্লাস্টিকের বাঁকা পাইপে জাতীয় পতাকা টাঙানো হয়েছে। পাইপটি একদিকে হেলে আছে। ‘জাতীয় পতাকা বিধিমালা-১৯৭২’ অনুযায়ী পতাকা ব্যবহার ও প্রদর্শনের কঠোর নিয়ম থাকলেও এখানে তা মানা হচ্ছে না। সচেতন মহল বলছে, এটি রাষ্ট্রের মর্যাদাকে খাটো করছে।

 

সেবা নিতে আসা খামারি ও পশু পালনকারীরা জানান, হাসপাতালে সরকারি ওষুধ মেলে না। পশুর চিকিৎসায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বাইরে থেকে ওষুধ কেনার প্রেসক্রিপশন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সেবা চার্ট থাকলেও তা মানা হয় না। অভিযোগ রয়েছে, স্টাফদের উৎকোচ না দিলে রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়।

 

মদনপুরা গ্রামের খামারি শামীম জানান, তার অন্তঃসত্ত্বা ছাগল কুকুরে কামড়ানোর পর হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু দায়িত্বরত কর্মকর্তারা তাকে বাইরে থেকে ব্লেড কিনে আনতে বলেন। এমনকি তাকেই পশুর ক্ষতস্থান পরিষ্কার করতে বাধ্য করা হয়। সরকারি ওষুধ ও পর্যাপ্ত সেবার অভাবে শেষ পর্যন্ত তার ছাগলটি মারা যায়। চিকিৎসা ও ওষুধের খরচ জোগাতে গিয়ে তিনি নিঃস্ব হয়েছেন।

 

সূর্যমনি ইউনিয়নের ফারুক হোসেন বলেন, আগে তার বড় খামার ছিল। কিন্তু প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ডাক্তারদের অবহেলা ও সেবার বিনিময়ে টাকা আদায়ের কারণে তিনি খামার গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন। অনেক সময় প্রয়োজনে তাদের ফোনেও পাওয়া যায় না।

 

এ বিষয়ে উপজেলা মাঠ সহকারী (কৃত্রিম প্রজনন) মনিরুল ইসলাম জনবল সংকটের কথা বলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন।

 

অনিয়মের বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. আবু রায়হান বলেন, “যদি সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে, তবে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। খামারিদের চিকিৎসা দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

 

তবে খামারিরা বলছেন, শুধু মৌখিক আশ্বাসে কাজ হবে না। স্থানীয়রা দ্রুত এই দপ্তরে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং ভোগান্তি লাঘবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।



সম্পর্কিত খবর