ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ফল বাগানের পরিত্যক্ত ছায়াযুক্ত জমিতে হলুদ চাষ করে সফল হয়েছেন কৃষক জামির হোসেন। উপজেলার নাটঘর ইউনিয়নের একইছড়া গ্রামে আম ও লিচু বাগানের নিচে অব্যবহৃত ১৫ শতাংশ জমিতে হলুদ আবাদ করে তিনি চলতি মৌসুমে প্রায় ২০ মণ ফলন পেয়েছেন, যার বাজারমূল্য প্রায় অর্ধ লক্ষ টাকা।
স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানায়, ‘ফ্লাড রিকনস্ট্রাকশন ইমারজেন্সি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রজেক্টের’ আওতায় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফারুক আহমেদের পরামর্শে জামির গত মার্চ মাসে বারি হলুদ-১ জাতের বীজ বপণ করেন। ১০ মাস পর ৮০০ কেজি কাঁচা হলুদ আহরণ করেন তিনি। যেখানে সাধারণ জমিতে ছায়ার কারণে অন্য ফসল হয় না, সেখানে হলুদের এই বাম্পার ফলন স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
কৃষক জামির জানান, তাঁর প্রয়াত বাবার ইচ্ছায় পরিত্যক্ত জায়গায় মাত্র ৬০ কেজি বীজে এই চাষ শুরু করেন। তিনি বলেন, “ফলের পাশাপাশি একই জমি থেকে হলুদ পাওয়ায় বাড়তি লাভ হচ্ছে। আমার সাফল্য দেখে প্রতিবেশীরাও এখন ছায়াযুক্ত জমিতে মসলা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানান, আদা ও হলুদ আংশিক ছায়া সহনশীল হওয়ায় ফল বাগানে এই চাষ অত্যন্ত টেকসই ও লাভজনক প্রযুক্তি। তিনি বলেন, “জামিরের সাফল্য প্রমাণ করে সঠিক ব্যবস্থাপনায় ছায়াযুক্ত জমিও আয়বর্ধক সম্পদে রূপান্তর সম্ভব।”
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে নবীনগর উপজেলার প্রায় ১৫ বিঘা পরিত্যক্ত ও ছায়াযুক্ত জমিতে আদা ও হলুদ আবাদ হয়েছে। দেশীয় মসলার উৎপাদন বৃদ্ধি ও আমদানি নির্ভরতা কমাতে এ ধরনের সমন্বিত চাষ পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।