নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় এক বালু ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে মারধর ও কানে কামড় দিয়ে গুরুতর আহত করার ঘটনায় ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন চিশতিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ছাড়া মামলায় আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে ঠিকাদার সজিব মিয়া পলাশ থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে মহিউদ্দিন চিশতিয়াকে। অন্য নামীয় আসামিরা হলেন জামাল, জনি, আনোয়ার, শফিক, আমিনুল, সোহেল, জুয়েল, মানিক, রায়হান ও রিজন। তাঁরা সবাই ঘোড়াশাল দক্ষিণ চরপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং মহিউদ্দিন চিশতিয়ার কর্মী বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, টি কে খান গ্রুপের একটি প্রকল্পে বালু, ইট, রড ও সিমেন্ট সরবরাহের দায়িত্ব পান ঠিকাদার সজিব মিয়া। ওই কাজের জন্য গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা বালু ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেনের কাছ থেকে একটি ড্রেজার মেশিন ও পাইপ ভাড়া নেওয়া হয়।
গত সোমবার বিকেলে বাংলাদেশ জুট মিলের ভেতরে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে ড্রেজার ও পাইপ বসানোর সময় মহিউদ্দিন চিশতিয়ার নির্দেশে কয়েকজন মোটরসাইকেলে এসে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এরপর সাখাওয়াত হোসেনকে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে মহিউদ্দিন চিশতিয়ার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা আটকে রেখে তাঁকে কিল-ঘুষি ও চড়-থাপ্পড় মারা হয়। একপর্যায়ে মহিউদ্দিন চিশতিয়া তাঁর গলা চেপে ধরে কানে কামড় দিলে কান গুরুতর জখম হয়। পরে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ির বাইরে ফেলে রেখে চলে যায় অভিযুক্তরা। আহত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে তাঁর কানে চারটি সেলাই দিতে হয়।
ভুক্তভোগী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, তিনি টেন্ডারের ঠিকাদার নন, শুধু ভাড়ায় ড্রেজার দিয়ে কাজ করছিলেন। এরপরও তাঁকে নির্মমভাবে মারধর করা হয় এবং কানে কামড় দেওয়া হয়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
এ বিষয়ে পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল মামুন জানান, কানে কামড় দিয়ে আহত করার ঘটনায় মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ রয়েছে এবং আরও ১৫–২০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্তরা বর্তমানে পলাতক। তাঁদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।