আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, ই-পারিবারিক আদালতের নতুন এই ডিজিটাল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভুক্তভোগীরা বিনামূল্যে মামলা করতে পারবেন, যা দুর্নীতির পথ বন্ধ করবে এবং বিচারিক দীর্ঘসূত্রিতা কমাবে। তিনি ডিজিটাল ব্যবস্থাকে ভয় না পেয়ে এটিকে সাদরে গ্রহণ করার জন্য আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার ঢাকা মহানগর আদালতে ই-পারিবারিক আদালত কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এবং পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, "বিনামূল্যে ই-পারিবারিক আদালতের মামলা করতে পারবেন ভুক্তভোগীরা। এতে মানুষের ভোগান্তি যেমন কমবে, তেমনি অব্যবস্থাপনাও সংকুচিত হবে, বন্ধ হবে দুর্নীতি।" তিনি আশা প্রকাশ করেন, ডিজিটাল পদ্ধতির ফলে আইনজীবীদের আয় কমবে না, বরং বাড়বে।
তিনি আরও বলেন, সাক্ষীর অভাবে দিনের পর দিন বহু মামলা ঝুলে থাকার সমস্যা সমাধানে বর্তমান সরকার ভার্চুয়ালি সাক্ষী দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে, ফলে মামলার দীর্ঘসূত্রিতা কমে আসবে। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, "অতিরিক্ত সংস্কার করতে গিয়ে রাষ্ট্রকাঠামো দুর্বল করা যাবে না। যেকোনো প্রক্রিয়াই বাস্তবায়ন করতে গেলে তা ক্রমান্বয়ে এগিয়ে নিতে হয়।"
ড. আসিফ নজরুল মনে করেন, "আগামীতে যে সরকারই আসুক, ই-পারিবারিক আদালতের প্রক্রিয়াটি চলমান রাখা জরুরি। না হলে এটি ম্লান হয়ে যেতে পারে। এ উদ্যোগ সব পক্ষকে গ্রহণ করতে হবে।"
পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, নতুন এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে 'পেপারলেস সিস্টেম' আরও এগিয়ে যাবে, যা তাঁর জন্য আনন্দের বিষয়। তিনি প্রক্রিয়াটি গ্রহণ করায় আইনজীবীদের ধন্যবাদ জানান।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, এই ডিজিটাল কার্যক্রম আইন পেশাজীবীদের আরও দ্রুত ও কার্যকর সেবা দিতে সহায়তা করবে।
দেশে এই প্রথম চালু হওয়া কাগজবিহীন ই-পারিবারিক আদালতের মাধ্যমে মামলার দীর্ঘসূত্রতা, অতিরিক্ত খরচ, দূরত্বজনিত সমস্যা এবং ভিড় ও অপেক্ষার মতো সমস্যাগুলোর সমাধান হবে বলে আদালত সূত্র জানিয়েছে। দ্রুত অনলাইন প্রক্রিয়া, ন্যূনতম খরচ, ঘরে বসে সেবা গ্রহণ, ডিজিটাল নথি, সপ্তাহের সাত দিন ২৪ ঘণ্টা রেজিস্ট্রেশন এবং অনলাইন শিডিউলিংয়ের সুবিধা পাওয়া যাবে। ফলে সহজেই নির্যাতিত নারী ও শিশুরা ঘরে বসে সেবা পাবেন। এছাড়া ডাক্তার, পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট ঝামেলা ছাড়াই সাক্ষ্য দিতে পারবেন।