জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে ইউরোপের চার দেশ-পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্র। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত ভারত-ভিশেগ্রাদ গ্রুপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এ সমর্থন জানানো হয়।
স্লোভাকিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুরাজ ব্লানার বৈঠকের পর বলেন, ভিশেগ্রাদ গ্রুপের চার দেশই মনে করে, গ্লোবাল সাউথের অংশ এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের উদীয়মান শক্তি হিসেবে ভারতকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে থাকতে হবে। ভিশেগ্রাদ গ্রুপ বা ভি-৪ হলো মধ্য ইউরোপের চার দেশের একটি আঞ্চলিক জোট।
এর সদস্য পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্র। ১৯৯১ সালে গঠিত এই জোট রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রতিরক্ষা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য কাজ করে।
নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারে ভারতের দাবি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বর্তমানে পাঁচটি স্থায়ী সদস্য দেশ রয়েছে- যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য। তাদের প্রত্যেকের ভেটো ক্ষমতা রয়েছে। এর বাইরে ১০টি অস্থায়ী সদস্য দেশ দুই বছরের জন্য নির্বাচিত হয়। ভারত দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যসংখ্যা ও কাঠামো সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে। নয়াদিল্লির যুক্তি, ১৯৪৫ সালে পরিষদ গঠনের সময়কার বিশ্বব্যবস্থার সঙ্গে বর্তমান বিশ্বের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও জনমিতিক বাস্তবতার বড় পরিবর্তন হয়েছে। ফলে এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো প্রয়োজন। ভারত ব্রাজিল, জার্মানি ও জাপানের সঙ্গে জি-৪ জোটের অংশ হিসেবেও নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার ও স্থায়ী সদস্যপদ সম্প্রসারণের পক্ষে কাজ করছে। বৈঠকে বিস্তৃত সহযোগিতার আলোচনা : জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে ভি-৪ দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এই প্রথম যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। জয়শঙ্কর বৈঠকটিকে একটি ‘নতুন ঐতিহাসিক’ উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি জানান, ভারত ও ভি-৪ দেশগুলো প্রতিবছর পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক আয়োজন এবং একটি বার্ষিক ব্যবসায়িক ফোরাম চালুর বিষয়ে একমত হয়েছে। প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন, গবেষণা ও শিক্ষা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, মহাকাশ, যোগাযোগব্যবস্থা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়েও দুই পক্ষ কাজ করবে বলে জানান তিনি।
সমর্থন এল, তবে সংস্কারের পথ এখনও কঠিন : ভিশেগ্রাদ গ্রুপের সমর্থন ভারতের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় নতুন একটি ইউরোপীয় সমর্থন যোগ করলেও এর ফলে নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদ নিশ্চিত হচ্ছে না। পরিষদের কাঠামো পরিবর্তনের জন্য জাতিসংঘ সনদ সংশোধনসহ সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ব্যাপক সমঝোতা প্রয়োজন।
নিরাপত্তা পরিষদে নতুন স্থায়ী সদস্য যুক্ত হলে তাদের ভেটো ক্ষমতা থাকবে কি না, কতটি নতুন আসন তৈরি হবে এবং কোন অঞ্চল কতটি আসন পাবে- এসব বিষয় নিয়েও সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। ফলে চার ইউরোপীয় দেশের সাম্প্রতিক সমর্থন ভারতের দাবিকে রাজনৈতিকভাবে জোরালো করলেও সংস্কার প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ নির্ভর করবে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সমঝোতার ওপর।