ঢাকা

ভোরের আলো ফোটার আগেই আধিপত্য বিস্তার নিয়ে টেঁটা ও ককটেল নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ২৪

আধিপত্য বিস্তার নিয়ে চাঁন মিয়া ও শহীদ মেম্বার পক্ষের সংঘর্ষ; ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ, আতঙ্কে এলাকাবাসী

নরসিংদী সদর উপজেলার চরাঞ্চল চরদিঘলদীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ টেঁটাযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২৪ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন টেঁটাবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার চরদিঘলদী ইউনিয়নের জিতরামপুর গ্রামের টিটিরচর এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জিতরামপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে চাঁন মিয়া ও শহীদ মেম্বার পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। গত দুই মাসে এই বিরোধের জেরে অন্তত চার থেকে পাঁচবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এলাকার সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার ভোরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের লোকজন টেঁটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে অন্তত ২৪ জন টেঁটাবিদ্ধ ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন। এ ছাড়া ককটেল বিস্ফোরণে রমজান নামের এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে একটি পক্ষ দাবি করেছে।

আহতদের স্বজনেরা তাঁদের উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যান। স্থানীয়দের দাবি, গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় আহত ব্যক্তিরা নরসিংদীর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে অনীহা প্রকাশ করছেন।

শহীদ মেম্বার পক্ষের মমিন মিয়া জানান, প্রায় দুই মাস ধরে তাঁরা বাড়িঘরে ফিরতে পারছেন না। বাড়িতে যেতে চাইলেই হামলার শিকার হতে হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ভোরের সংঘর্ষে তাঁদের পক্ষের ১২ জন টেঁটাবিদ্ধ ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ককটেল বিস্ফোরণে রমজান নামের একজন আহত হয়েছেন। প্রশাসনের কাছে তাঁরা নিরাপদে বাড়িঘরে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।

অন্যদিকে চাঁন মিয়া অভিযোগ করেন, রাতে প্রতিপক্ষ তাঁদের ওপর টেঁটা ও ককটেল নিয়ে হামলা চালায়। এতে তাঁদের পক্ষের ১২ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পেছনে শহীদ মেম্বারের সঙ্গে আওয়ামী লীগের লোকজনের যোগসাজশ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে শহীদ মেম্বার বলেন, ভোররাতে চাঁন মিয়ার লোকজন প্রথমে তাঁদের ওপর হামলা চালায়। তাঁরা ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা লোকজনের ওপর অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছেন। এতে নারীসহ তাঁদের পক্ষের প্রায় ১৪ থেকে ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, ভোরে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহত ব্যক্তিরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

দীর্ঘদিনের এই বিরোধ ও বারবার সংঘর্ষের ঘটনায় চরদিঘলদীর সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে এলাকায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং নিরাপদে বাড়িঘরে ফেরার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

 


সম্পর্কিত খবর