ঝিনাইদহের বিভিন্ন হাটবাজারে হাতি দিয়ে চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। হাতির পিঠে বসা মাহুতের নির্দেশেই রাস্তায় চলাচলরত পথচারী থেকে শুরু করে দোকানে দোকানে হাতিটি শুঁড় এগিয়ে দিয়ে তুলছে টাকা।
শুঁড়ের মাথায় টাকা না দেওয়া পর্যন্ত হাতিটি সেখান থেকে শুঁড় সরাচ্ছে না। এভাবেই অভিনব কৌশলে হাতি দিয়ে চলছে চাঁদাবাজি। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারী ও গাড়িচালকেরা, যা নিয়ে তাঁদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার ও রাস্তায় এমন চিত্র দেখা গেছে।
জমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাহুত হাতি দিয়ে গাড়ি, পথচারী ও দোকানির কাছ থেকে ১০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত নিচ্ছেন চাঁদা। কালীগঞ্জ, কোটচাঁদপুর, খালিশপুর ও জীবননগর সড়কের পথচারী এবং গাড়ির সামনে হাতি শুঁড় বাড়িয়ে দিলে পথচারীরা ৫০ টাকা হাতিটির শুঁড়ে গুঁজে দিচ্ছেন।
টাকা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে এক পথচারী বলেন, "টাকা না দিলে সামনে থেকে যাবে না। আমরা নিরুপায় হয়ে টাকা দিই।"
আব্দুর রহিম নামের এক পথচারী বলেন, এভাবে হাতি দিয়ে চাঁদাবাজি করায় যানজটের সৃষ্টি হয়। যেকোনো সময় ঘটে যেতে পারে দুর্ঘটনা।
খাইরুল ইসলাম নামে এক মোটরসাইকেলচালক বলেন, মাঝপথে গাড়ি থামিয়ে হাতি দিয়ে এভাবে সড়কে চাঁদা তোলায় দুর্ঘটনা ঘটছে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা অনেক সময় হাতি দেখে ভয় পেয়ে রাস্তা পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে।
টাকা নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে হাতির মাহুত বলেন, সার্কাস বন্ধ থাকায় হাতির ভরণপোষণের জন্য মানুষের কাছ থেকে চেয়ে নিচ্ছেন। টাকা নেওয়ার নিয়ম আছে কি না জানতে চাইলে এ প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি তিনি।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমান বলেন, "বন্যপ্রাণী দিয়ে এভাবে সড়কে চাঁদাবাজি করার কোনো সুযোগ নেই। এমন চাঁদাবাজি করা হলে তথ্য দিন, আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।"