বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনকালে তিনি স্টেশনের বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন।
এ সময় তিনি বলেন, “১৮টি নতুন কোচ আনা হয়েছে। পঞ্চগড় থেকে আমরা আপাতত একটি নতুন ট্রেন চালু করব। এরপর আমাদের আরও মোট ২০০টি কোচ আসবে। সেগুলো দিয়ে আমরা কিছু নতুন ট্রেন চালুর পাশাপাশি কিছু কোচের পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছি। পর্যায়ক্রমে কোচগুলো আসতে থাকবে এবং পর্যায়ক্রমে আমরা এগুলো চালু করব।”
পঞ্চগড় থেকে কক্সবাজার রেললাইন স্থাপন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “পঞ্চগড় থেকে কক্সবাজার রেললাইনের কাজ মূলত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। আমাদের সব লাইন এখনো ব্রডগেজে রূপান্তরিত হয়নি। ব্রডগেজ রূপান্তর সম্পন্ন হওয়ার পরই আমরা চিন্তা করব পঞ্চগড় থেকে কক্সবাজার রেললাইনের যৌক্তিকতা কতটুকু এবং কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ যাত্রী পাওয়া যাবে কি না।”
পঞ্চগড় থেকে বাংলাবান্ধা রেললাইন সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে মহাপরিচালক বলেন, “বাংলাবান্ধা পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের একটি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাংলাবান্ধার ওপারে ভারতের সঙ্গে কোনো সংযোগ (কানেক্টিভিটি) না থাকায় কেবল অভ্যন্তরীণ চাহিদা হয়তো কিছুটা পূরণ হতো, তবে আঞ্চলিক যোগাযোগের (রিজিওনাল কানেক্টিভিটি) যে মূল উদ্দেশ্য ছিল, তা অর্জিত হতো না। যদি সীমান্তের ওপার থেকে রেললাইন এসে সংযুক্ত না হয়, তবে সরাসরি সংযোগ স্থাপন সম্ভব নয়। তাই দুই দেশ একমত বা রাজি না হলে বড় কোনো সুফল মিলবে না বিবেচনা করে আপাতত এই প্রকল্পটি স্থগিত রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে দুই দেশ একমত হলে এটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা এখানে লোডিং-আনলোডিংয়ের সুবিধাগুলো ঠিকঠাক আছে কি না এবং কী ধরনের চাহিদা রয়েছে, তা দেখতে এসেছি। যদি চাহিদা বেশি থাকে, তবে আমরা রেললাইন সম্প্রসারণ করব। চাহিদা ও পর্যাপ্ত জায়গা থাকলে স্টেশনটি বড় করে দিতে পারি, যাতে আরও বেশি কোচ প্রবেশ করতে পারে। অথবা চাহিদা সাপেক্ষে পাশে আরেকটি নতুন লাইনও করে দেওয়া যেতে পারে। মূলত এগুলো পরিদর্শনের জন্যই আজ আমাদের এই আগমন।”