ঢাকা

অটোরিকশা ভাড়া নিয়ে চালককে খুন, ২০ দিন পর পিবিআইয়ের জালে ২ আসামি

নরসিংদীর রায়পুরায় ১৬ বছর বয়সী অটোরিকশাচালক মনির হোসেনকে শ্বাসরোধে হত্যার পর অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের অটোরিকশার চারটি ১২ ভোল্টের ব্যাটারিও উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—রায়পুরা উপজেলার শেরপুর গ্রামের আসাদ মিয়া ওরফে এরশাদ (৩৮) এবং হাটুভাঙা গ্রামের জাহিদুল মিয়া (৩০)।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল বাগপাড়া বুরুজেরটেক এলাকার একটি বাড়ি থেকে আসাদ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ অক্টোবর রাত ১২টা ১৫ মিনিটে কুমিল্লার লালমাই বাজারসংলগ্ন আইটি পার্ক এলাকা থেকে জাহিদুল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআই জানায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টার দিকে চরসুবুদ্ধি এলাকার বাসিন্দা শাহআলম মিয়ার ছেলে মনির হোসেন অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর সে আর বাড়ি ফেরেনি। তার মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান না পেয়ে রায়পুরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তাঁর বাবা।

এরপর ৫ অক্টোবর সকাল ১১টার দিকে রায়পুরার আদিয়াবাদ শিকদারপাড়া সংলগ্ন একটি বিলের কচুরিপানার মধ্য থেকে মনিরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্বজনেরা মরদেহটি মনিরের বলে শনাক্ত করেন।

পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে আসে, প্রায় দেড় লাখ টাকা মূল্যের অটোরিকশাটি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে মনিরকে তার পরিহিত প্যান্টের বেল্ট দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে বিলের পানিতে কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। এ ঘটনায় ৬ অক্টোবর রায়পুরা থানায় হত্যা ও আলামত গোপনের অভিযোগে মামলা হয়।

পিবিআইয়ের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানান, আসাদ প্রথমে চরসুবুদ্ধি এলাকা থেকে মনিরের অটোরিকশাটি ভাড়া করেন। সন্ধ্যার পর জাহিদুল ওই অটোরিকশায় ওঠেন। পরে তাঁরা নির্জন বিলপাড়ে গিয়ে মনিরকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রাখেন। এরপর অটোরিকশাটি নিয়ে যান। অটোরিকশার বিভিন্ন অংশ খুলে বিক্রি করে দেওয়া হয় বলেও জানান তাঁরা।

আসাদ মিয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মনিরের অটোরিকশার চারটি ‘Gaston Plus’ ব্যাটারি উদ্ধার করে জব্দ করেছে পিবিআই।

পিবিআই নরসিংদী জেলা ইউনিটের পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেনের তত্ত্বাবধানে পুলিশ পরিদর্শক শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে তদন্ত পরিচালিত হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফ আলীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

পিবিআই জানিয়েছে, অটোরিকশার অবশিষ্টাংশ উদ্ধারে অভিযান ও মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।



সম্পর্কিত খবর