প্রলোভন, গোপন যোগাযোগ আর ব্ল্যাকমেইলের ফাঁদ—এমন নানা অভিযোগ ঘিরে এখন টাঙ্গাইলের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি ‘হানিট্র্যাপ’ চক্র।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় এক মাস ধরে এ চক্রের মাধ্যমে নারীদের ব্যবহার করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় মূল হোতা হিসেবে কালিহাতীর এলেঙ্গা পৌরসভার রাজাবাড়ী এলাকার মো. উজ্জ্বল সরকারের নাম সামনে এলেও তিনি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, উজ্জ্বল বিভিন্ন উঠতি বয়সী নারী ও স্কুল-কলেজের ছাত্রীদের দিয়ে অর্থশালী ব্যক্তিদের টার্গেট করতেন। পরে ওই নারীদের মাধ্যমে বিভিন্ন পন্থায় ফাঁদে ফেলে ভয়ভীতি দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিতেন উজ্জ্বল ও তাঁর চক্রের সদস্যরা।
এ নিয়ে ৭ মিনিট ৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দুই তরুণীর সাথে উজ্জ্বলকে মুঠোফোনে কথা বলতে শোনা যায়।
এক তরুণী উজ্জ্বলকে বলছে, “ভাই আমরা এত ঝুঁকি নিচ্ছি, আমরা যাতে খালি হাতে না ফিরি।”
জবাবে উজ্জ্বল ওই তরুণীদের বলছে, “রুমে প্রবেশের সময় এসএমএস দিবে ‘ভাই আমরা ঢুকলাম’। তারপর আমাদের রুম পর্যন্ত যেতে ৩ থেকে ৫ মিনিট লাগবে। এরপর আমরা ভিডিও ধারণ করব। টাকা কীভাবে দেব, সেটা আমার ওপর ছেড়ে দাও। টাকা নেওয়ার বিষয়ে আমার অভিজ্ঞতা আছে। টাকা না দিলে এক কোটি টাকা দেনমোহর ধার্য করে তোমাদের বিয়ে করাবো।”
অভিযোগ রয়েছে, পরিচিতি ও ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে প্রথমে আস্থা অর্জন, এরপর ব্যক্তিগত তথ্য বা স্পর্শকাতর বিষয়কে কেন্দ্র করে চাপ সৃষ্টি করা হতো। কখনো অর্থ আদায়, কখনো সামাজিকভাবে হেয় করার ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের জিম্মি করার অভিযোগও রয়েছে চক্রটির বিরুদ্ধে।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা উজ্জ্বল এখনো কেন গ্রেপ্তার হননি? তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে সেগুলোর তদন্ত কত দূর এগিয়েছে? এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তাঁদের শনাক্ত করা হয়েছে কি না?
এদিকে, এ ধরনের প্রতারণার শিকার অনেকেই সামাজিক সম্মানহানি, ভয়ভীতি কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের আশঙ্কায় মুখ খুলতে চান না। ফলে অপরাধের প্রকৃত চিত্র সামনে আসতে দেরি হতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত উজ্জ্বল সরকার বলেন, “আমি এ ধরনের কোনো কাজের সাথে জড়িত নই। আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই।”
এ বিষয়ে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন টাঙ্গাইলের সচেতন মহল।