নওগাঁর রাণীনগরে “মিথ্যা” মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার পারইল বাজারে স্থানীয় লোকজন এই মানববন্ধনের আয়োজন করেন।
পারইল ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি তুষার আহম্মদের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন পারইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল বাশার বুলেট, ওই ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান মামুন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাজেদুর রহমান, স্থানীয় ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম ও প্রশান্ত কুমার প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা দাবি করে বলেন, গত ৭ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় পারইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের সামনে মোজাম্মেল হক মোজা ওরফে মঞ্জু (৭০)-এর দোকানে খাবার জিনিস কিনতে যায়। এ সময় মোজাম্মেল হক শিক্ষার্থীকে দোকানের ভেতরে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে। বিষয়টিতে স্থানীয় লোকজন জানতে পেরে মোজাকে আটক করেন এবং উত্তেজিত জনতা মোজার দোকানে হামলা চালায়। পরে পুলিশ এসে মোজাকে আটক করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা করা হয়।
বক্তারা দাবি করেন, ওই মামলাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মোজার ছেলে ইউনুস আলী বাদী হয়ে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ওই শিশুর বাবাসহ ১৩ জনকে নামীয় এবং আরও ৩০-৪০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের “মিথ্যা” মামলা দায়ের করেছেন। বক্তারা দায়েরকৃত মামলাকে মিথ্যা দাবি করে তা দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার মোজাম্মেল হকের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।
মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দা এবং পারইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।
এ ব্যাপারে মামলার বাদী বৃদ্ধ মোজাম্মেল হকের ছেলে ইউনুস আলী বলেন, তাঁর বাবার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তুলে মামলা-হামলা করা হয়েছে তা পুরোটাই ষড়যন্ত্রমূলক। তাঁর বাবা এত বৃদ্ধ বয়সে ধর্ষণচেষ্টার মতো কাজ করতে পারেন না। তিনি বলেন, “ওই শিশুর বাবার সাথে ব্যবসায়িক লেনদেন ছিল এবং তাঁর কাছে আমার বাবা দোকানের বাকির ৯০ হাজার টাকা পাবেন। সেই টাকা না দিতে কতিপয় লোকজনের ষড়যন্ত্রে ধর্ষণচেষ্টার নাটক সাজিয়ে বাবাকে ফাঁসানো হয়েছে এবং আমাদের দোকানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে।” এছাড়া তাঁর দায়েরকৃত মামলা তদন্ত করলে সত্য প্রমাণিত হবে বলে দাবি করেন ইউনুস আলী।
রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মন্ডল বলেন, আদালতে দায়েরকৃত মামলার নথি এখনো তাঁর থানায় আসেনি। নথি আসলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।