পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা নার্সিং ইনস্টিটিউটে ৩৯ জন শিক্ষার্থীর নবীন বরণ ও ক্যাপ পরিধান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বেলা ১২টায় ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ। তবে আনন্দঘন এই অনুষ্ঠানের সমান্তরালে উঠে এসেছে প্রতিষ্ঠানটির তীব্র শিক্ষক সংকট ও অবকাঠামোগত নানা সমস্যার চিত্র।
ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে ভবন নির্মাণ শুরু হয়ে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এটি উদ্বোধন করা হয়। বর্তমানে তিনটি ব্যাচে মোট ১১০ জন শিক্ষার্থী থাকলেও তাদের পাঠদানের জন্য শিক্ষক রয়েছেন মাত্র দুইজন। পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া নিজস্ব বাস ও প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সাপোর্ট না থাকায় প্রতিষ্ঠানটি সরকারি আর্থিক সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা এখনো কোনো প্রকার সরকারি অনুদান পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মরিয়ম বেগম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, "নার্সরা চিকিৎসকদের সহযোগী হলেও রোগীর প্রধান আশ্রয়স্থল তারাই। অনেক সময় রোগীর স্বজনদের সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগ ওঠে, তবে বাউফল নার্সিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আমরা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব প্রত্যাশা করি।" তিনি শিক্ষার্থীদের শপথের প্রতিটি বাক্য ব্যক্তিজীবনে ধারণ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবদুর রউফ, সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক আবদুল বারী সরকার, সহকারী অধ্যাপক ওহিদুজ্জামান সুপন এবং রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের ক্যাপ ও ব্যাজ পরিয়ে দেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্সিং ইনচার্জ মিনারা বেগম। শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।