নরসিংদীতে দেশীয় মদের দোকানের কর্মচারী তানভীর আহমেদ রাব্বীর শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি জাহাঙ্গীর সরকারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ১টার দিকে নরসিংদী শহরের বানিয়াছল বালুরমাঠ এলাকার একটি তিনতলা ভবনের নিচতলায় (বেজমেন্টে) থাকা মুরগির ঘর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
গ্রেপ্তার জাহাঙ্গীর সরকার (৬০) মামলার এজাহারভুক্ত ১ নম্বর আসামি। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি নরসিংদী শহরের নিরালা আবাসিক হোটেলের মালিক।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে নরসিংদী শহরের লাইব্রেরি পট্টির একটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত দেশীয় মদের দোকানে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, দোকানের কর্মচারী তানভীর আহমেদ রাব্বীর শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে তিনি গুরুতর দগ্ধ হন।
এ ঘটনায় রাব্বীর মা মিনু বেগম বাদী হয়ে ২১ সেপ্টেম্বর রাতে নরসিংদী মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় জাহাঙ্গীর সরকার, তাঁর ছেলে জাহিদ সরকার এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুই-তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩২৬, ৩০৭ ও ৩৪ ধারায় দায়ের করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে— ঘটনার আগে জাহাঙ্গীর সরকার ওই দোকানে গিয়ে ১০ লিটার মদ বিনামূল্যে দাবি করেন। কর্মচারীরা তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি জোরপূর্বক মদ নিয়ে চলে যান। পরে একই দিন তাঁর ছেলে জাহিদ সরকার সহযোগীদের নিয়ে দোকানে ফিরে এসে তানভীরের শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এজাহারে থাকা এসব অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলা দায়েরের পর আসামিদের গ্রেপ্তারে নরসিংদী মডেল থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একাধিক দল অভিযান শুরু করে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জাহিদ সরকারের এক সহযোগী কাজী তৌফিক আহমেদ পিয়াসকে শনাক্ত করে পুলিশ। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে জাহাঙ্গীর সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার অপর প্রধান আসামি জাহিদ সরকারসহ অজ্ঞাতনামা অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
এদিকে আসামিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে গত ২৩ সেপ্টেম্বর নরসিংদী পৌরসভা মোড়ে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে মানববন্ধনটি মিছিলে রূপ নেয়। একপর্যায়ে জাহাঙ্গীর সরকার পরিচালিত নিরালা আবাসিক হোটেলে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার জাহাঙ্গীর সরকারকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।
অন্যদিকে অগ্নিদগ্ধ তানভীর আহমেদ রাব্বী বর্তমানে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছে নরসিংদী জেলা পুলিশ। মামলার তদন্ত এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।