রংপুর

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে মাদকাসক্ত ছেলের বিরুদ্ধে মায়ের অভিযোগ, প্রশাসনের সহায়তা কামনা

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে মাদকাসক্ত ছেলের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মা হামিদা বেগম।

৩ নভেম্বর সোমবার সকালে মা হামিদা বেগম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে এ অভিযোগ দেন। অভিযোগকারী হামিদা বেগম পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সুন্দরদীঘি ইউনিয়নের ফুলবাড়ি বাজারের মৃত সুন্দরদীঘি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল আজিজ শাহের স্ত্রী।

লিখিত অভিযোগে মা হামিদা বেগম জানান, তাঁর ছোট ছেলে জুলফিজুর রহমান (৩৫) প্রায় ১৫ বছর ধরে মাদকাসক্ত। স্বামী আজিজ শাহের মৃত্যুর পর তিনি অসহায় হয়ে পড়েন। স্বামীর সব ব্যবসা-বাণিজ্যের টাকা দিয়ে জুলফিজুর মাদক সেবন করত। ইতিপূর্বেও সে তাঁকেসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মারধর করেছে, যা এলাকার অনেকেই জানেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির লোকজন জুলফিজুরকে মাদক সেবনে বাধা দিলে সে তাঁকেসহ নিজের স্ত্রী-সন্তানদেরও মারধর করত। স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁর নামে থাকা সারের ডিলারশিপ বড় ছেলে ও মেয়েরা একত্রিত হয়ে পঞ্চগড় কোর্টে অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে ছোট ছেলে জুলফিজুরকে দেয়। পরবর্তীতে সে সারের ডিলারশিপ ও স্বামীর অন্যান্য ব্যবসা-বাণিজ্য দেখাশোনা করা শুরু করে। ডিলারশিপ ও অন্যান্য ব্যবসা পরিচালনা করলেও সে তাঁর কোনো খোঁজখবর রাখে না এবং কোনো ভরণপোষণ বা চিকিৎসার খরচ দেয় না। বর্তমানে স্বামীর রেখে যাওয়া সারের ডিলারশিপটি পঞ্চগড়ের অজ্ঞাতনামা এক সার ব্যবসায়ীর নিকট চুক্তি করে দিয়েছেন জুলফিজুর। এরপর থেকে পুরোদমে সারের ডিলারশিপের কমিশন ও ব্যবসার টাকা দিয়ে সে মাদক সেবন করছে। বাড়ির পাশের মোস্তফার বাড়ির একটি রুম ভাড়া নিয়ে সেখানে মাদক সেবন, মাদক বিক্রি ও বিভিন্ন জায়গা থেকে নারী এনে অবৈধ কার্যক্রম চালাচ্ছে। মাদক সেবনের সময় মোস্তফা ও তাঁর স্ত্রী তাঁকে সহযোগিতা করে এবং তাদের ইন্ধনেই এসব অপকর্ম চলে।

গত ২ নভেম্বর রাতে নেশাগ্রস্ত ও বেসামাল অবস্থায় বাড়িতে এসে সে স্ত্রী-সন্তানকে মারধর শুরু করে। এ সময় মা হামিদা বেগম বাধা দিতে গেলে তাঁকেও মারধর করা হয়।

হামিদা বেগম বলেন, “পূর্বে আমার স্বামীর নামে থাকা সারের ডিলারশিপটি আমার নামে হস্তান্তর করা হলে বৃদ্ধ বয়সে নিজের ওষুধপত্রের খরচ বহন করতে পারতাম।”

জুলফিজুরের স্ত্রী সম্পা আক্তার জানান, জুলফিজুর প্রায় ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মাদক সেবন ও বিক্রি করছেন। এখন তিনি বাড়ির ভেতরেই বসে মাদক সেবন করেন। এর প্রতিবাদ করলেই তাঁদের মারধর করা হয় এবং তাঁরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।

দেবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাঈম মোর্শেদ জানান, ডিলার নিজে সার উত্তোলন করে তা সরবরাহ করবেন—এটাই নিয়ম। জুলফিজুর রহমান ডিলারশিপ চালাচ্ছেন বলে জানালেও হামিদা বেগম বিষয়টি অস্বীকার করে জানিয়েছেন যে, জুলফিজুর নিজে লাইসেন্স না চালিয়ে তা অন্য ব্যক্তির নিকট বন্ধক রেখেছেন।

দেবীগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) প্রবীর কুমার সরকার জানান, ইউএনও মহোদয় জানালে পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।

দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজীৎ সাহা বলেন, “মায়ের দেওয়া অভিযোগটি আমরা দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি। পরিবারের সদস্যদের বলছি তাঁকে পুনরায় মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে রাখার জন্য, যেন সহজে তিনি বের হতে না পারেন। পুলিশ প্রশাসন ফুলবাড়ি বাজারে গিয়ে বিষয়টি দেখভাল করছে এবং তাঁরাও মাদকাসক্ত জুলফিজুরের বিষয়টি জানেন।”

 


সম্পর্কিত খবর