কুমিল্লার হোমনায় যৌতুকের দাবিতে চালানো শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তাহমিনা আক্তার (২৮) নামের এক প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী গা-ঢাকা দেওয়ায় এবং তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে উপজেলার ঘাগুটিয়া ইউনিয়নের দরিচর গ্রামে স্বামীর বাড়িতে। নিহত তাহমিনা আক্তার একই উপজেলার নূড়ালাপুর গ্রামের মো. আবদুল বাতেন মিয়ার মেয়ে এবং দরিচর গ্রামের মো. সুমন মিয়ার স্ত্রী। তাঁদের সংসারে চার বছরের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের জেরে পারিবারিকভাবে তাহমিনার সঙ্গে সুমনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই গৃহবধূর সচ্ছল বাপের বাড়ি থেকে বিভিন্ন সময়ে টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ দিত স্বামী ও তাঁর পরিবার। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাহমিনার ওপর শুরু হতো শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। পারিবারিক এসব বিরোধ মেটাতে এর আগে স্থানীয়ভাবে তিনবার সালিশ বৈঠকও হয়েছিল।
সর্বশেষ গত ২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার তাহমিনার ভাইদের কাছে পুনরায় টাকা দাবি করেন সুমন। ভাই টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে গৃহবধূর ওপর মানসিক চাপ আরও বেড়ে যায়। মানসিক চাপ সইতে না পেরে সোমবার রাতে তিনি বাধ্য হয়ে কলার ট্যাবলেট (কীটনাশক) পান করেন। বিষয়টি টের পেয়ে স্বামীর বাড়ির লোকজন রাত পৌনে ১১টার দিকে তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত (রেফার) করেন। কিন্তু হাসপাতালে না নিয়ে অজ্ঞাত কারণে তাঁকে এক হাতুড়ে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে সোমবার মধ্যরাতে স্বামীর বাড়ি থেকে তাহমিনার বাবার বাড়িতে আত্মহত্যার খবর জানানো হয়।
পরদিন মঙ্গলবার পুলিশ খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার বিকেলে আসরের নামাজের পর বাবার বাড়ি নূড়ালাপুর গ্রামে তাঁর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়। তবে এই জানাজায় স্বামীর বাড়ির পক্ষ থেকে মাত্র দু-একজন প্রতিবেশী অংশ নেন বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর আসল রহস্য জানা যাবে। সুরতহাল প্রতিবেদনে বাহ্যিক কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক অশান্তির জেরে এই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।