চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় পাহাড় কেটে ফেলায় সৃষ্ট ঝুঁকিতে কয়েকটি বসতবাড়ি ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্র অবৈধভাবে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করে দেওয়ায় ঝুঁকিতে পড়েছে বসবাসকারী পরিবারগুলো। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এই বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও তাঁরা কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না। এই ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
জানা গেছে, বাঁশখালী পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ জলদী ভিলেজারপাড়া এলাকায় শফিউল আলম, এবাদুল্লাহ ও রহমত আলীর নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করছে। উঁচু পাহাড়গুলো উপর থেকে নিচ পর্যন্ত সোজাভাবে কেটে ফেলায় পার্শ্ববর্তী বসতবাড়িগুলোতে ফাটল দেখা দিয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে পাহাড় ধসে বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি বিধ্বস্ত হতে পারে।
অভিযোগকারী আজিজ আহমদের স্ত্রী হানুয়ারা বেগম জানান, প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে পাহাড় কেটে ও ফলজ-বনজ গাছ কেটে জায়গা দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন। এতে পাহাড়ের নিচের অংশ নরম হয়ে আশপাশের ঘরবাড়ি ধসে পড়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় আনোয়ারা বেগম বলেন, "প্রতিবেশী প্রভাবশালীরা পাহাড় কেটে গাছপালা ধ্বংসের কারণে আমরা প্রতিদিন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। যেকোনো মুহূর্তে পাহাড় ধসে আমাদের ঘরবাড়ি ও প্রাণহানি ঘটতে পারে।" তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তারা দিনের আলোয় পাহাড় কাটা অব্যাহত রেখেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধভাবে পাহাড় কাটা ও গাছ নিধনের কারণে ইতোমধ্যে পাহাড়ের নিচের মাটি সরে গিয়ে কয়েকটি বসতবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে পুরো এলাকা পাহাড় ধসের আতঙ্কে রয়েছে।
বনবিভাগের জলদী বনবিট কর্মকর্তা আবুল কালাম জানান, পাহাড় কাটায় জড়িতদের বিরুদ্ধে শীঘ্রই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া কেউ যাতে পাহাড় বা গাছ না কাটে, তার জন্য এলাকায় মাইকিং করে সবাইকে সতর্ক করা হবে।
বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ জামশেদুল আলম জানান, পাহাড় কাটায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।