খুলনা

বেনাপোলে গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে বিএনপির বর্ণাঢ্য আনন্দ র‍্যালি

বেনাপোলে ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) উদ্যোগে বর্ণাঢ্য আনন্দ র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার বিকেলে বেনাপোল পৌর বিএনপির আয়োজনে কর্মসূচিতে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক সদস্য অংশ নেন।

বেনাপোল চেকপোস্ট এলাকা থেকে র‍্যালিটি শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বাজারের নূর শপিং কমপ্লেক্সের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় নেতাকর্মীদের হাতে ছিল জাতীয় ও দলীয় পতাকা। তাঁরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, ভোটাধিকার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সুশৃঙ্খল দেশ গঠনের প্রত্যয়ে বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত করে তোলেন পুরো এলাকা। র‍্যালিকে কেন্দ্র করে পৌর শহরে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়।

বেনাপোল পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের ভারতের নেতৃত্বে কর্মসূচিটি পালিত হয়। তিনি পুরো শোভাযাত্রায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং সফল করতে সার্বিক দিকনির্দেশনা দেন।

র‍্যালি শেষে নূর শপিং কমপ্লেক্সের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবু তাহের ভারত বলেন, “৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের এক স্মরণীয় মাইলফলক। এই ঐতিহাসিক আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বিএনপি সব সময় গণমানুষের পাশে রয়েছে এবং থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন, শান্তি, সম্প্রীতি এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সুসংহত করতে দলীয় নেতাকর্মীদের শৃঙ্খলা বজায় রেখে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে হবে।

সমাবেশে অন্যান্য নেতাও গণঅভ্যুত্থানে আত্মত্যাগকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তাঁরা বলেন, মুক্তিকামী মানুষের এই আত্মত্যাগ দেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান বক্তারা।

আনন্দ র‍্যালিতে বেনাপোল পৌর বিএনপি, উপজেলা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, শ্রমিক দল, কৃষক দল ও মহিলা দলসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। কর্মসূচি চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিল এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পুরো অনুষ্ঠান শেষ হয়।

শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ, গণতন্ত্রের সঠিক অগ্রযাত্রা এবং একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।



সম্পর্কিত খবর