খুলনা

বেনাপোল বন্দরের সংকট নিরসনে কাস্টমস কমিশনারের সঙ্গে জামায়াত নেতার বৈঠক

বেনাপোল স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে বিদ্যমান নানা সমস্যা ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে কাস্টমস কমিশনার মোহাম্মদ ফাইজুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও যশোর-১ (শার্শা) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আজীজুর রহমান।

 

সোমবার (১৮ মে) দুপুর ৩টার দিকে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বেনাপোল কাস্টমস ও বন্দর-সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরা হয়। আলোচনায় দ্রুত পণ্য খালাস, ট্রাকজট নিরসন, জনবলসংকট, অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ একাধিক বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

 

বৈঠকে জানানো হয়, বর্ডারের কার্গো শাখায় দক্ষ কম্পিউটার অপারেটর ও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্যের আইজিএম এন্ট্রি ও কারপাস প্রদান প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে। এ ছাড়া তথ্য এন্ট্রিতে ঘন ঘন ভুল হওয়ায় সংশোধনে দুই দিন পর্যন্ত সময় লাগছে। এ সমস্যা সমাধানে দক্ষ জনবল বাড়ানোর দাবি জানানো হয়।

 

এ সময় বলা হয়, কাস্টমস ও বন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহেলার কারণে প্রতিদিন মাত্র ২৫০ থেকে ৩০০ ভারতীয় ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করছে। অথচ বর্তমানে ভারতে দেড় হাজারের বেশি ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। বাণিজ্য সচল রাখতে প্রতিদিন অন্তত ৫০০ থেকে ৬০০ ট্রাক প্রবেশের ব্যবস্থা করার দাবি তোলা হয়। একই সঙ্গে রপ্তানি পণ্যবাহী ট্রাক দ্রুত ভারতে প্রবেশের ব্যবস্থাও চাওয়া হয়।

 

বৈঠকে আরও বলা হয়, আমদানিকৃত পণ্য দ্রুত খালাসের ব্যবস্থা, বন্দরের বিভিন্ন শেডে পড়ে থাকা নিষিদ্ধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য অপসারণ এবং ভারত থেকে সুতা আমদানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি রয়েছে ব্যবসায়ীদের। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে পাটজাত পণ্য ও সব ধরনের তৈরি পোশাক (গার্মেন্টস) পণ্য ভারতে রপ্তানির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টিও আলোচনায় আসে।

 

বন্দর-সংক্রান্ত সমস্যার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ক্রেন ও ফর্কলিফট বিকল থাকায় পণ্য ওঠানামায় ভোগান্তির কথা তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া ফর্কলিফট শেড ও গুদাম বাড়ানো, পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণ, বিভিন্ন শেড থেকে অবৈধ লোকজন অপসারণ এবং বন্দর এলাকায় কর্মরত শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য ক্যান্টিন, নলকূপ (টিউবওয়েল) ও যানবাহন রাখার ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়।

 

আলোচনায় বর্ডারের ২৫ একর এলাকা থেকে ছোট আঁচড়ার মোড় পর্যন্ত সড়ক চার লেনে উন্নীত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়। বর্তমানে ওই সড়ক দিয়ে আমদানি ও রপ্তানির ট্রাকসহ বাংলাদেশি ও ভারতীয় খালি ট্রাক চলাচল করায় প্রায়ই তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়।

 

বৈঠক শেষে কাস্টমস কমিশনারও বন্দরের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা ও সমস্যার বিষয় সংসদ সদস্যের কাছে তুলে ধরেন। পরে উভয়ের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা শেষ হয়।

 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন শার্শা থানা জামায়াতের নায়েবে আমির ইঞ্জিনিয়ার তৈয়্যবুর রহমান জাহাঙ্গীর, বেনাপোল পোর্ট থানা শাখার আমির মো. রেজাউল ইসলাম এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. মতিউর রহমান।



সম্পর্কিত খবর